পটিয়া প্রতিনিধি
চাঞ্চল্যকর মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন। প্রায় সাড়ে ৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিত এই ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মেজর সিনহার বুকের বাম পাজরে জুতাপরা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন প্রদীপ। তার আগে তৎকালীন বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী মেজর সিনহাকে সরকারি পিস্তল দিয়ে পরপর ৪টি গুলি করেন।
গতকাল রবিবার ৩৭৮ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। সিনহা হত্যা মামলায় দেওয়া রায়ে হাইকোর্টের পর্যেবক্ষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার দায়ে বরখাস্তকৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস এবং বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিচারপতি মো. সগির হোসেন রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে সাক্ষর শেষে তা পাঠিয়েছেন সেকশনে। একইসঙ্গে আরও ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডও বহাল রাখা হয়েছে।
এর আগে, গত ২ জুন হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও ট্রায়াল কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দন্ডিতদের আপিল শুনানি শেষে এ রায় দেন।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি মেজর (অব.) সিনহাকে হত্যার দায়ে প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদন্ড এবং আরও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯ টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার ৫ দিন পর ২০২০ সালের ৫ আগস্ট নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় র্যাব। অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকান্ডকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল ওই মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে টেকনাফ প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদন্ড ও ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এক উপ-পরিদর্শকসহ তিন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের তিন সোর্স। এই মামলায় সাত আসামি খালাস পান। পরে ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা দন্ডিত আসামিরা আপিল করেন।










