আবু মোশাররফ রাসেল
বিয়ের স্টেজ মানেই বাহারি ফুলের বন্যা, ঝালর-ঝালর আলো, রঙ-চকমকের জগৎ-এই প্রচলিত ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে ব্যতিক্রমী দৃশ্যপট দেখিয়েছে রুচিশীল এক পরিবার। বুকশেলফ আর প্রাচ্যের গালিচা দিয়ে তৈরি হয়েছে বিয়ের স্টেজ; দেখে মনে হচ্ছিল-এ যেন কোনো বইপ্রেমী পরিবারের ড্রয়িংরুম; হঠাৎই খুলে গেছে আকাশের নিচে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প পরিবার, ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানির সন্তান, ইস্পাহানি গ্রæপের পরিচালক মির্জা ইস্পাহানির বিয়ের স্টেজ সাজানো হয় ঘরের ড্রয়ং রুমের বইভর্তি বুকশেলফ দিয়ে। চট্টগ্রাম ক্লাবের খোলা ইয়ার্ডে গত শুক্রবার রাতে হয়ে গেলো এই আয়োজন।
নগরীর এস এস খালেদ সড়কে সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই গাড়ির চাপ, সব সড়ক মিশে একাকার চট্টগ্রাম ক্লাবের মুখে। ক্লাবের পূর্বপাশের খোলা ইয়ার্ডের দিকে চোখ রাখতেই দেখা গেল-ভিন্নধর্মী এক স্টেজ। কেমন জানি ব্যতিক্রমী, অন্যান্য স্টেজের সাথে মিলছে না দৃশ্যপটটি। একটু কাছে গিয়ে দেখা গেল-পেছনে সারি-সারি কাঠের বুকশেলফ; যেন বছরের পর বছর জমে থাকা গল্প, ইতিহাস, জ্ঞান আর স্মৃতিরা অতিথিস্বাগত করছে। প্রতিটি তাক ভরতি বই যেন সাক্ষী হয়ে থাকছে দুই জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্মের। ফুল দিয়ে নয়; স্টেজটি যাদের দিয়ে সাজানো-তারা হলো শব্দ, ভাবনা আর সময়। তবু শেলফের মাথায় নরম সাদা ফুলের মালা সেই বইগুলোর ওপর ভরিয়ে দিয়েছে শুভ্রতা আর নির্মলতার ছোঁয়া; যেন জ্ঞান আর সৌন্দর্য পাশাপাশি বসে আছে।
এমন অসাধারণ এই ডিজাইনটির পরিকল্পনাকারী স্বয়ং বরের মা, মির্জা শিরিণ ইস্পাহানি। মায়ের পরিকল্পনায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ঘরের বুকশেলফ এনে রূপ দিয়েছেন বিয়ের স্টেজে।
মঞ্চের মাঝখানে ভারী কাঠের নকশা করা দরজাটা যেন বলছে-‘এই দরজাই দুজনের নতুন জগতের প্রবেশপথ।’ চারদিকে রুচিশীল পুরনো আভিজাত্যের আসবাব, গরম আলোয় জ্বলজ্বল করা ল্যাম্পশেড, প্রাচ্য গালিচার নরম রং-সব মিলিয়ে এক ধরনের নস্টালজিয়ায় ভেজা অভিজাত সৌন্দর্য তৈরি করেছে। এটা কোনো স্রেফ বিয়ের সাজ নয়-এটা এক দার্শনিক ইঙ্গিত; যেখানে ফুল ঝরে যায়, আলো নিভে যায় কিন্তু বই, গল্প, স্মৃতি, সম্পর্কের মতোই-চিরন্তন, থেকে যায়।
স্টেজটি যেন ফিসফিস করে বলছে, বিয়ে শুধু সাজের সৌন্দর্য নয়; দুটি জীবনের নতুন অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের প্রথম পাতাটি খুলে গেল বইয়ের তাকের সামনে, জ্ঞানের আলোয়। সৌন্দর্য আর সময়ের সাক্ষ্যে মিশে গেছে ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতা।
বিয়ে অনুষ্ঠানে আসা এটিএন বাংলা, চট্টগ্রামের ডেপুটি ব্যুারো ইনচার্জ মনজুর কাদের মনজু পূর্বদেশকে বলেন, ইস্পাহানি পরিবার কেবল একটি শিল্পগোষ্ঠী নয়; এটি এই দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যেও ধারক-বাহক। তারা তাদের প্রতিটি কর্মকান্ডে ঐতিহ্য বজায় রাখার চেষ্টা করে, বিয়ের স্টেজের থিমটিও তারা ভিন্নধর্মী করেছে।
ইস্পাহানি গ্রুপের জি.এম (মার্কেটিং) ওমর হান্নান পূর্বদেশকে বলেন, ‘ইস্পাহানি শিল্পগ্রুপ বা ইস্পাহানি পরিবার বলতেই একটা রুচিশীল, আধুনিক ও নতুন কিছু। আমরা সব সময় ইতিহাস-ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে আধুনিকতাকে ধারণ করি। বিয়ে অনুষ্ঠানের শুধু স্টেজই নয়; সবকিছুতেই একটু ভিন্নতা রক্ষার চেষ্টা করেছি আমরা।’











