গণঅভ্যুত্থানে পতন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ সেই ফ্যাসিবাদ গোষ্ঠী ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদরা ঢাকায় কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেট্রল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটাছে।
ডিবি পুলিশ বলছে, অতি গোপনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে স্থান নির্বাচিত ফ্যাসিবাদরা তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত করছে।
তবে পুলিশ বলছে, আজ বৃহস্পতিবার লকডাউন কর্মসূচিতে কোনো হুমকি না থাকলেও ঢাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৫০ থানায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খবর বাংলানিউজ’র
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, পুলিশের পক্ষ থেকে রাজধানী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করলেও আসলে মাঠ পর্যায়ে কতটুকু সফলতা এসেছে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনাসহ যানবাহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন যাত্রীবাহী যানবাহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মাক্স ও হেলমেট পরিধানকারী একদল লোক। ডিএমপির পরিসংখ্যান বলছে গত ১১ দিনে রাজধানীর ১৫টি স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
আরও জানা যায়, ককটেল বিস্ফোরণ করে কিংবা বাসে আগুন দিয়ে ক্ষান্ত নয় ফ্যাসিবাদ দুর্বৃত্তরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এ অবস্থিত মোহাম্মদপুর প্রিপারটরি স্কুলের গার্লস শাখায় পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে ঢাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়সহ প্রধান প্রধান সরকারি কার্যালয়গুলোতে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছাড়াও রাজধানীর বনানী, উত্তরা, বাড্ডা, পল্টন ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের করা হয়েছে। বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের বৃহস্পতিবারে (১৩ নভেম্বর) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৫০ থানায় আট-দশজন করে পুলিশ সদস্য বাড়তি মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার কোনো আশঙ্কা না থাকলেও সতর্কতার কারণে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অপরাধ কর্মকাÐের জন্য অর্থ ও লোক সাপ্লাইকারি ফ্যাসিবাদ নেতাসহ গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদ গোষ্ঠীরা বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষ করে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করছে বেশি। সেখানে তারা নির্দেশনা দেয়, যে অমুক জায়গায় জড়ো হতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ২-১ মিনিটের মধ্যে সড়কে মিছিলের করে সেটা ভিডিওতে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এই ফ্যাসিবাদরাই ঘটিয়েছে। এই সব ফ্যাসিবাদী অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পরে অ্যাপসের মাধ্যমে কার্যক্রম বিষয়টি সামনের দিকে আসে। ডিবি সব ধরনের কার্যক্রম প্রতিহত করে যাচ্ছে এবং অ্যাপস গুলোকে মনিটরিং করা হচ্ছে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনের ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে দেখা যায় অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে রাতের বেলায়। সেজন্য রাতে যেন কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।











