‘বিএনপি জনভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত দল, সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না’

7

আবু মোশাররফ রাসেল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ একাংশ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সক্রিয় এই নেতা মনোনয়ন নিয়ে নিজের অনুভূতি, অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রসঙ্গ এবং সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের রিপোর্টে একজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার ছবি প্রকাশ হওয়াসহ নানা বিষয়ে পূর্বদেশের সাথে কথা বলেছেন।

পূর্বদেশ : হাটহাজারী আসনে আপনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন, আপনার অনুভ‚তি জানতে চাই…

ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন : জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়া প্রত্যেক রাজনীতিবিদের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাক্সক্ষা, আজন্ম লালিত স্বপ্ন। আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাকে মনোনীত করার জন্য। আমি তাদের এই আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।

পূর্বদেশ : এই আসনে আরও কয়েকজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তাদেরও নিশ্চয় কর্মী-সমর্থক রয়েছেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর সবাই কি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : হাটহাজারী-বায়েজিদ আসন থেকে আমি ছাড়াও আরও দুইজন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। একটা বড় দলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকাটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি বিগত ১৭টি বছর হাটহাজারী বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম, বিভিন্ন হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। আমরা যারা দায়িত্বশীল ছিলাম তাদের সকলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে হাটহাজারী থানায়। অন্য দুইজনও কাজ করেছেন, কেউ সামাজিক কাজ করেছেন। কিন্তু তাদের জনসম্পৃক্ততায় ঘাটতি যেটা, তাদের বিরুদ্ধে এত বছরে থানায় একটি জিডিও হয়নি; যার একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। যেহেতু আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জনসম্পৃক্ততা-জনপ্রিয়তা বিবেচনায় মনোনয়নটা নির্ধারণ হয়েছে তাই মেজরিটি; যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে আসছিলেন তারা সকলেই অলরেডি মাঠে চলে এসেছেন। আগে যেটা হতো, আলাদা আলাদা কিছু প্রোগ্রাম হয়তো করেছে, কারণ তখন তো নিশ্চিত ছিল না কে মনোনয়ন পাবে? এখন তো ধানের শীষ ডিসাইডেট (সিদ্ধান্ত) হয়েছে, এখন একদম আপামর জনসাধারণ-নেতাকর্মী সবাই সম্পৃক্ত। এখানে ধানের শীষের বাইরে কেউ নেই, টোটাল আপনি হিসাব করলে ৫/৭ জন হয়তো বাইরে থাকতে পারে; যেখানে ৪ লাখ ৯২ হাজার লোক সেখানে এটা কোনো সংখ্যা না এবং ওনারাও খুব দ্রুত ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

পূর্বদেশ : যে দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মনোনয়ন ঘোষণার পর তাদের সাথে কি যোগাযোগ হয়েছে বা তারা কি আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রামে এসে সাবেক এমপি, হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমসহ অন্য মুরুব্বীদের কবর জেয়ারত করেছি এবং সেদিন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বাকি দুইজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো একটি কারণে তাদের সাড়া মিলেনি। তবে আমি আরও চেষ্টা করে যাবো। তারা আমাকে অভিনন্দন জানাননি, তবে আমার পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত আছে। কারণ আমার তো সবাইকে লাগবে, সবার ভোট লাগবে। অবশ্য এটাও ঠিক যে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি, জনসম্পৃক্ততা হাটহাজারী-বায়েজিদ বিএনপি পরিবারের আছে কিন্তু আমি সব সময় সবাইকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলতে চাই। দলের কর্মী-সমর্থকদের আমি কোনো ব্যক্তিগত হিসেবের মধ্যে ফেলতে চাই না। তারা সবাইÑবিএনপির রাজনীতি করেন, ধানের শীষের জয়ের জন্য লড়াই করেন, জিয়ার আদর্শ ধারণ করেন এবং বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রাখেন। তারা সকলেই ধানের শীষের জয়ের জন্য কাজ করবেন।

পূর্বদেশ : মনোনয়ন ঘোষণার পর সপ্তাহখানেক পার হয়েছে, আপনি নিশ্চয় এরই মধ্যে এলাকায় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন, গণসংযোগ করেছেন। পরিস্থিতি কেমন বুঝছেন বা আপনার নির্বাচনী কৌশল কেমন হবে?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : মনোনয়ন ঘোষণার পরদিন থেকেই হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানে মানুষজনের সাথে মতবিনিময় করেছি, গণসংযোগ করেছি এবং চট্টগ্রামে দলের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি। মনোনয়ন পাওয়ার আগেও এটাই ছিল আমার দৈনন্দিন কাজের রুটিন এবং সেটা দীর্ঘদিন ধরেই। সুতরাং, নির্বাচনের জন্য নতুন কোনো কৌশল আমাকে নিতে হচ্ছে না বা আমি মনে করি সেটা প্রয়োজন নেই। আমি সাধারণ মানুষের সাথে সব সময় এক কাতারে থেকেছি, তারা আমাকে তাদের সন্তান হিসেবে, ভাই হিসেবে সুখ-দুঃখের কথা মন খুলে বলতে পারেন, ভোটেও তারা আমাকে সেভাবেই মূল্যায়ন করবেন বলে আশা রাখি। আমরা সবাই মিলে হাটহাজারী-বায়েজিদকে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো।

পূর্বদেশ : সন্ত্রাসের কথা যখন এসেছে; সম্প্রতি একজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে আপনার ছবিসহ গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া। আপনার মন্তব্য কী?

ব্যারিস্টার মীর হেলাল : ব্যাপারটি গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে তা সঠিক নয়। কারণ হিসেবে বলব, ওই রিপোর্টেই সেই একই ব্যক্তির সাথে আরও অনেক নেতার ছবি আছে দেখলাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লোকটি কার প্রশ্রয় পাচ্ছে বলে ধারণা করবো? বাস্তবতা হচ্ছে, আমার সাথে যে ছবিটি; সেটি আমি দেখেছি। ছবিটি অনেক পুরোনো, ধারণা করছি ২০২০-২১ সালের ছবি, কোনো একটি জনসভা শেষ হওয়ার পরের। ওই ছবিতে বাম পাশে যে লোকটিকে দেখতে পাচ্ছি তিনি আমাদের মেখল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ওসমান। এখন ওসমান যেহেতু আছে আমি ভেবেছি ওসমানের কোনো কর্মী হয়তো সঙ্গে আছে, আমি তাকে চিনি না। জনসভায় গেলে এত শত সহস্র লোকের মধ্যে কার সাথে ছবি উঠে এটা তো বলা মুশকিল। এখন বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে-যার কথা বলা হচ্ছে এই ধরনের কারও জন্য আমি কি কোথাও কোনো ফোন করেছি? আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছি বা সহযোগিতা করেছি এমন কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন? এখন ছবি তুলতে পারলেই কি তার দায়-দায়িত্ব ওই নেতার ওপর বর্তাবে? আসলে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে; যেটি নিয়ে আমি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতিও দিয়েছি। এই ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করে হয়তো ষড়যন্ত্র করা যাবে কিন্তু আমার এলাকার জনগণ আমাকে অনেকদিন ধরেই চিনে, আমি কেমন মানুষ, কেমন নেচারের তারা জানেন, সাংবাদিক বন্ধুরাও আমার সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা রাখেন। আমি সব সময় গণতান্ত্রিকতার রাজনীতি করি, জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনীতি করি। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, যার সাথেই ছবি থাকুক না কেন তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে, সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে হবেÑএটাই হচ্ছে আমার ক্লিয়ার মেসেজ। সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে আমাদের দল ও আমার ব্যক্তিগত অবস্থান হচ্ছে-আমরা কখনোই এসবে প্রশ্রয় দেব না, দেওয়ার দরকারও নেই। কারণ, বিএনপি জনভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। আমরা সাধারণ মানুষের কল্যাণে, সাধারণ মানুষকে নিয়েই রাজনীতি করি।
পূর্বদেশ : আপনাকে ধন্যবাদ।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল : আপনাকেও ধন্যবাদ।