বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করবে

3

পূর্বদেশ ডেস্ক

বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। গতকাল রোববার বিকালে জাতীয় ইমাম ও খতিব সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি, আইয়ামে জাহেলিয়ার সময়ে আমাদের মহানবী (সা.)-কে যারা অপছন্দ করত তারাও মহানবীকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে মানত এবং বিশ্বাস করত। মহানবীর ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে মুসলমান-অমুসলমান বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কারও মধ্যেই কোনো সংশয় ছিল না। মহানবীর সেই ন্যায় পরায়ণতার আদর্শ সমুন্নত রেখে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় বিএনপির মূলমন্ত্র হবে ইনশাআল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা। খবর বিডিনিউজের।
মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে উজ্জীবিত একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে বিএনপি দেশের সকল সম্মান্বিত ইমাম-খতিব- মুয়াজ্জিন-আলেম-ওলামা-পীর-মাশায়েকদের দোয়া ও সমর্থন চায়।
তারেক রহমান বলেন, আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই, আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই, আমার দলের নেতাকর্মী-সমর্থক এবং সর্বোপরি দেশবাসীর জন্য দোয়া চাই।
আগারগাঁও বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের উদ্যোগে জাতীয় ইমাম খতিব সম্মেলন-২০২৫ শীর্ষক এ সম্মেলন হয়। এতে ইমাম ও খতিবদের ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য সচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের উপস্থাপিত দাবির বেশ কয়েকটি অগ্রধিকারভিত্তিতে পূরণ করার সব রকমের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি। আপনারা ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের জন্য সার্ভিস রুল প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। আপনাদের এই দাবিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
অনেক মসজিদে মসজিদ কমিটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপরে ইমাম-মুয়াজ্জিনের চাকরি নির্ভর করে। আমি মনে করি এটি হওয়া উচিত নয়, এটি হতে পারে না। এটিকে আমি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণ বলে মনে করি।
আগামিতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সার্ভিস রুল প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এ বিষয়ে ইমাম-খতিবদের একাধিক কমিটি করে প্রতিটি দাবির সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বিএনপিকে দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে বিএনপি এমন একটি কল্যাণমূলক সমাজ, সরকার এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে যে রাষ্ট্র সমাজে মুসলমানগণ নিঃসংকোচে কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন, নির্ভয়ে নিরাপদে এবাদত বন্দেগি করতে পারবেন।
একইভাবে অন্য ধর্মের মানুষেরাও নিরাপদে নিশ্চিন্তে যার যার ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করতে সক্ষম হবে। বিএনপি কখনোই ইসলামের মূলনীতি কিংবা মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে আপোস করেনি, ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী যেকোন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচার ইসলাম, মুসলমান এবং ইসলামী সংস্কৃতিকে রাষ্ট্র ও সমাজে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছিল। আপনাদের এখানে যারা আজকে উপস্থিত আছেন আপনাদের অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে যে, ২০২৪ সালে পবিত্র রমজান মাসে হঠাৎ করে মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ইফতার মাহফিল আয়োজনের উপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটি ছিল বাংলাদেশের ইসলামবিরোধী, ইসলামের মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। সেই সময় বিএনপি অপতৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপরে হানাদার বাহিনীর মতন ক্র্যাকডাউন চালানো হয়েছিল। গণহত্যার প্রতিবাদে এবং হেফাজতে ইসলামের সমর্থনে বিএনপি সারাদেশে দুইদিন হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল তখন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যেকোনো পেশা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেটের গুরুত্ব বিবেচনা করে কাওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ডিগ্রি ‘দাওরে হাদিস’ অর্থাৎ ‘তাকমিল সনদকে’ মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছিল।
দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সারাদেশে সব মিলিয়ে মসজিদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লাখ বা তারও কিছু বেশি হতে পারে। এই মসজিদগুলোতে কম বেশি প্রায় ১৭ লাখ ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করছেন।