বিএনপির বাজেটে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হবে শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে

1

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বিএনপি। এজন্য দলের প্রণীত বাজেটে সর্বাধিক বিনিয়োগ রাখা হবে এই দুই খাতে। আমাদের বাজেটের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য। পরিবেশ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমাদের আরও অনেক কাজ আছে।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহানগর বিএনপির ব্যবস্থাপনায় এসএসসি ও এইচএসসি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক শওকত আজম খাজা ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেলের পরিচালনায় এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহব্বায়ক ড. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল।
আলোচক ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, দেশে এখন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার গুরুত্ব রাজনৈতিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাদের মেধা, দক্ষতা ও শিক্ষার উপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে। তিনি বলেন, লেখাপড়া ভালো করলে একটা স্বীকৃতীর ব্যাপার আছে। স্বীকৃতীটা শুধু সামাজিক পর্যায়ে না, এখন রাজনৈতিক পর্যায়েও পৌঁছেছে। স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে, যা এক দুই বছর আগেও ছিল না।
বিএনপির শিক্ষা ভাবনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, শিক্ষাটা কেমন হবে, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কেমন হবে, এসব বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, মিউজিক, নাটক থিয়েটারের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। নতুন বিশ্বে কীভাবে আমরা সম্পৃক্ত হবো, সেসব বিষয়ও আগামী দিনের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবর্তিত হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এখন সবার হাতে একটি করে স্মার্টফোন আছে। মোবাইল ফোন থেকেই বিশ্বের যে কোনো লাইব্রেরিতে প্রবেশ করা যায়, বই অর্ডার করা যায়। মেধাকে যত বেশি কাজে লাগানো যাবে, তত বেশি এগিয়ে যাওয়া যাবে। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যতের দক্ষতা নিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনের শিক্ষা কারিকুলাম হবে জাপানিজ, চাইনিজ, ইংলিশ, আরাবিক। যে যত বেশি জানবে, শিখবে, তার জীবনযাত্রার মান তত উন্নত হবে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক মানুষ আছে যারা ঠিকমতো দুই বেলা খেতে পারে না। শরীর ভালো না থাকলে মেধার বিকাশও হবে না। এজন্য আমরা সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনা পয়সায় নিশ্চিত করব ইনশাল্লাহ।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশে অনেক ডাক্তার আছে, কিন্তু চাকরি নেই। অনেকেই ২০-৪০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছে। এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আগামী দিনে বিনা পয়সার চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি সেখানে অনেকের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সবচেয়ে বড় যে ঘোষণা, ১৮ মাসে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান। সারা বাংলাদেশে আমরা স্কিল সেন্টার করব। ছেলে-মেয়েরা গ্রাম থেকে কল সেন্টার, ডাটা সেন্টারে কাজ করতে পারবে। অনেকে ঘরে বসে আচার বা পণ্য তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করছে, এটা আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে গ্রামে ইন্টারনেট পৌঁছে দেব।
ই কমার্সকে গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নকশিকাঁথা তৈরি করেও অনলাইনে বিক্রি করা সম্ভব হবে, শুধু বাংলাদেশে নয়, অ্যামাজন আলিবাবার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো জায়গায়। সেই ব্যবস্থাও বিএনপি করবে ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা কোন মেগা প্রজেক্টে যাব না। মানুষের আত্মকর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান, বিদেশে চাকরির সুযোগ, এসবই আমাদের অগ্রাধিকার। নতুন প্রজন্ম লেখাপড়া করেও চাকরি পাচ্ছে না। এজন্য ১৮ মাসে ১ কোটি চাকরির ব্যবস্থা করাই প্রথম দায়িত্ব।
ডিজিটাল যুগের দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, এআই এর সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। এতে যাতে আমাদের ছেলে মেয়েরা যুক্ত হতে পারে, তাদের জীবনের মান উন্নয়ন করতে পারে, এটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
মূখ্য আলোচক ড. মওদুদ হোসাইন আলমগীর পাভেল বলেন, শিক্ষার্থীরা কমবেশি অনেকেই স্মার্ট মোবাইল ইউজ করে। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিডিও রিলস দেখে সময় পার করলে হবে না। অনলাইনে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
অনুষ্ঠানের আলোচক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আজকে যাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ। আমরা শিক্ষার্থীদের চলার পথে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও ক্যারিয়ার গঠনে সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়ে যাবো।
আলোচক ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, একটি দেশ গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষিত করা, যাতে তারা আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তারেক রহমান ৩১ দফায় শিক্ষার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক এক্সট্রা কারিকুলামের উপর জোর দিয়েছেন। এটা অত্যনাত সময়োপযোগী।
সভাপতির বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জীবনে সফল হতে হবে। মেধাবী তারাই, যাদের মধ্যে দেশপ্রেম রয়েছে। দেশপ্রেম ছাড়া একজন মেধাবী কখনই দেশ ও জনগণের কাজে আসে না। শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমিক মেধাবী হয়ে উঠবে এই প্রত্যাশা করি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংবর্ধনা কমিটির আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আবদুস সাত্তার, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহ আলমগীর, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসিতে ১ম স্থান অধিকারী মেহজাবিন আফরোজ আলম স্নেহা, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে ১ম স্থান অধিকারী নিবির কর্মকার, কোরআন তেলোয়াত করেন মহানগর ওলামাদলের সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা জয়নাল আবেদীন।
উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহব্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আলহাজ এম এ আজিজ, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মুবিন ও মনজুরুল আলম চৌধুরী মন্জুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তি