বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক চায় দেশের মানুষ

2

অন্তর্বর্তীসরকার ক্ষমতায় আসার পর হতে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি জনগণ আসা করেছিল বাস্তবে তা হয়নি। নাশকতা,মব, হত্যা, ধর্ষণ, চোরাকারবারী, অবৈধ মাদক ব্যবসাসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ের কোন সেক্টরে সরকার উন্নতি ঘটাতে পারেনি। দেশের জেলা প্রশাসনসমূহ নিয়মিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা করে , নানা আশ্বাসও প্রদান করে। কিন্তু দেশে উক্ত বিষয়ে কোন পরিবর্তন ও তার সুফল জনগণ পায়নি। দেশের সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হলেও ভঙ্গুর পুলিশ প্রশাসনকে সেনাবাহিনীর পক্ষ হতে তেমন সহায়তার হাত বাড়াতে দেখা যায়নি। কী-একটা অবস্থা বিরাজ করছে দেশে। প্রতিদিন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং প্রিংটিং মিডিয়া দেখলে আমাদের বক্তব্য নির্ভুল প্রমানিত হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলসমূহের আশানুরূপ অনুক‚ল ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় না থাকলেও কোন না কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা সেলটার পেতে দেখা যাচ্ছে। অথচ প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে না। কোন একটা অপশক্তির যাঁতাকলে প্রশাসন যেন কাজের কাজটা করতে পাচ্ছে না। স্বৈরাচার আমলের পুলিশ প্রশাসনে অনুক‚ল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি অন্তর্বর্তীসরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একপ্রকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে ধারাবাহিক ভাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসমূহের সমন্বয়হীনতা এবিষয়ে অনেকাংশে দায়ী। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া আসন্ন নির্বাচন যথাযথ সুফল পাবে না। তাই দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতিকল্পে সরকারি উচ্চপর্যায় হতে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একথা। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন নির্বাচনী কর্মকান্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, আর সন্ত্রাসী-অপরাধী চক্র তাদের অপরাধ কর্মকান্ড চালানোর সুযোগ নিবে- সেই সুযোগ এখন আর নেই। পাহাড় কাটা, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি, কৃষি জমির মাটি বিক্রি, চোরাচালান, যাত্রী হয়রানি কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রম যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সজাগ আছে ও থাকবে। নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে কোনো অপরাধ কর্মকান্ড বরদাশত করা হবে না।
গতকাল রবিবার সকালে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, চোরাচালান দমন ও অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান, অবৈধ বালু উত্তোলন, জমির টপসয়েল ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় পরিবহনে যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা হয়।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অক্টোবর মাসের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকা জরুরি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। দুর্বৃত্তায়ন কিংবা যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সম্বয় সভায় যা বলা হয়েছে যদি তা বাস্তব রূপ পায় তাহলে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। শুধু চট্টগ্রাম নয় , দেশের সকল জেলা প্রশাসনকে একই ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা ছাড়া সুন্দর অনুকূল কথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না এমন ধারণা জনসাধারণের। কোন এক ছড়াতে পড়েছি-
“সবাই বলে ভাঙ্গো ভাঙ্গো
কেউকি কিছু ভাঙ্গে?
ষাটের দশক বগল বাজায়
বউ কেড়ে নেয় লাঙ্গে!” এমন পরিস্থিতি হতে দেশের আইন শৃঙ্খলাকে স্বাভাবিক পথে ফিরানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের।