বালুমহালের বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হাকিমকে হত্যা

5

নিজস্ব প্রতিবেদক ও হাটহাজারী প্রতিনিধি

কর্ণফুলী নদীর পাড়ের বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে রাউজানের বিএনপিকর্মী ও ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম (৫৫) হত্যাকান্ডে শামিল হয়েছিল দুটি সন্ত্রাসী দল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যাকান্ডটি টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে ঘটানো হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং তাদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মারুফ, মো. আবদুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন), মো. সাকলাইন হোসেন ও জিয়াউর রহমান। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি রাউজান উপজেলায়।
পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর আবদুল হাকিম তার প্রাইভেটকারে নগর থেকে রাউজান বাগোয়ানের হামিম অ্যাগ্রো ফার্মে যান। সেখানে কিছু সময় থাকার পর চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে এসে তার গাড়ির সামনে গুলি চালায়, এতে আবদুল হাকিম নিহত হন। তার গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন।
হত্যাকান্ডের তদন্তে জড়িতদের তথ্য জানার পর ৩১ অক্টোবর রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন থেকে মো. আবদুল্লাহ খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকান্ডে নিজের সম্পৃক্ততা কথা স্বীকার করেন। তিনি ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর ২ নভেম্বর রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মো. মারুফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাকলাইন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দেশি তৈরি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।একইদিনে জিয়াউর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘আবদুল হাকিম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে এবং এটি মূলত রাউজান থানাধীন বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। ইতোমধ্যে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী মডেল থানা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীসহ ১০ থেকে ১২ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ‘আমরা এই হত্যাকান্ডে আরও জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি এবং শিগগিরই তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।’
এদিকে, গত বছর আগস্টের ৫ তারিখের পর থেকে রাউজান উপজেলায় মোট ১৭টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১২টি হত্যাকান্ড রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সংঘটিত হয়। স্থানীয় লোকজনও এসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে যুক্ত করছেন।