বাবার সমর্থকদের কারণেই রাজনীতিতে আসি : হুম্মাম

4

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং রাঙ্গুনিয়া থেকে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেছেন, এখন তো আওয়ামী লীগ নাই, তাই নির্বাচন হবে ধানের শীষ আর হাতপাখার। এই নির্বাচনে আগের মতো নোংরা কথাবার্তা, নোংরা রাজনীতি করার আর সুযোগ হবে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটাই ভালো দল, মাঠে একসাথে নেমেছে। তাই চোর-চোট্টাদের দিন শেষ, বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার বিকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া জিয়াউল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুম্মাম কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একজন অসুস্থ ব্যক্তি, তিনটি আসনে নির্বাচন করবেন। উনার নির্বাচন করার উদ্দেশ্য শুধু একটাই, যারা তাকে এতোদিন ধরে পাশে থেকে সাহস দিয়েছেন তাদের নারাজ না করা। তিনি প্রমাণ করে দিতে চান, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য কাজ করে যাবেন। কোন দল, কোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন না। শুধু একটা জিনিস মাথায় রেখে ভোট দেবেন, কোন ব্যক্তির নিয়ত ঠিক আছে। তিনি বলেন, দশ বছর আগে বাবা হারিয়েছি, সবাই বলল- এতো বড় একটা ব্যক্তিকে দুনিয়া থেকে হত্যা করা হলো, আপনি তো কিছুই না, রাজনীতির দরকার নেই, রাজনীতি ছেড়ে দেন। বিদেশ চলে যান, বিদেশে গিয়ে আরাম আয়েস করেন, সুখে থাকেন। তখন চিন্তা করলাম, রাজনীতি যদি ছেড়ে দিয়ে বিদেশ চলে যাই, তবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এতো লাখ লাখ ভাই, এদের কি হবে। তাদের ব্যাপারে চিন্তা করে বাংলাদেশে রয়ে গেলাম। রাজনীতিতে ফিরে আসলাম।
হুম্মাম কাদের বলেন, বাবাকে হত্যার দশ মাসের মাথায় আমি ওমরাহ করতে গেলাম। ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার চারদিনের মাথায় গুম করা হলো। সাত মাস আয়নাঘরে ছিলাম, বহু নির্যাতন সহ্য করেছি। বের হওয়ার পর আমার থেকে মুচলেকা নেয়া হলো, আমি আর রাজনীতি করবো না। প্রায় ছয় মাসের মতো নিজের শরীর স্বাস্থ্য ঠিক করে, ডাক্তার দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে কথা বললাম। উনি আমার উপরে পুরোপুরি ছেড়ে দিলেন। রাজনীতি করি আর না করি উনি পাশে থাকবেন বলে জানালো। দেশে ফিরে আসলাম, এসে দলের সাথে মাঠে নেমে গেলাম আন্দোলনে। বলা হলো ভুল করছেন, এবার উঠিয়ে নিয়ে গেলে আর ফিরে আসবে না। সুযোগ হয়েছিলো চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বক্তৃতা দেয়ার। আমার নিয়ত কি সেটা বাংলাদেশের মানুষকে জানানো দরকার। চার মিনিটের বক্তব্যে কি বলেছি, কারো জানা নাই। কিন্তু শেষ করার আগে যা বলেছি, পুরো বাংলাদেশ শুনেছে। সেটা হলো নারায়ে তকবির স্লোগান। পুরো বাংলাদেশ শুনলো। বাড়ি গিয়ে মাকে বললাম আমি কি ভুল করেছি, তাকবির দিয়ে কি বিপদে পড়বো? আমার মা বলল, উপরে একজন বসে আছেন, উনি দেখবেন। আল্লাহ যাকে উঠাতে চান, সময়মতো তাকে উঠিয়ে নেন। আর আল্লাহ যদি কাউকে ধ্বংস করতে চান, এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। দেখেন শেখ হাসিনাকে আল্লাহপাক ধ্বংস করে দিয়েছেন, আর আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের ভাতিজাকে অনেকদূর উঠিয়েছেন।
এর আগে তিনি পারুয়া সাহাব্দিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে পারুয়ার নেজামিয়া সিদ্দিকিয়া মালেকিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসায় হযরত মাওলানা নিজাম উদ্দিন শাহ’র মাজার জেয়ারত করেন। শুরুতে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে বিএনপির একটি দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন। যাওয়ার পথে স্থানীয়দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন।