বাবর আলীর নতুন স্বপ্ন গড়তে চান ইতিহাস

5

নিজস্ব প্রতিবেদক

এভারেস্ট আর লোৎসে বিজয়ে থেমে থাকতে চান না বাবর আলী। তার অদম্য ইচ্ছা নতুন নতুন পর্বত জয়ের, যেখানে এখানো মানুষ যায়নি। সেখানে লাল সবুজের ‘কেতন’ উড়াবেন। গড়তে চান নতুন ইতিহাস। এভারেস্ট আর লোৎসে বিজয়ের পর বাবরের মনে উঁকি দিচ্ছে ‘বাবরি’ স্বপ্ন। স্বপ্ন পূরণের আনন্দ এভাবে প্রকাশ করছিলেন সদ্য এভারেস্ট আর লোৎসে বিজয়ী বাবর আলী।
গতকাল নগরীর চকবাজারস্থ আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নতুন স্বপ্নের কেতন উড়ান বাবর আলী। বলেন,অনেক টেকনিক্যাল মাউন্ট আছে। যেখানে এখনো মানুষ যায়নি, সেগুলোতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। সামনে নেপালের অন্নপূর্না মাউন্টে যাব ।
বাবর আলী জানান, সহজ ছিল না এভারেস্ট আর লোৎসে জয়। পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘপথ। পৃষ্ঠপোষক সংগঠন এবং ক্রাউড ফান্ডিংয়ের ফলে সহজ হয়েছে এভারেস্ট জয়। তাই তাদের কৃতিত্ব দিতেও ভোলেননি ডা. বাবর আলী। জানান সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
এভারেস্ট জয়ের গল্পে বলেন, পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালায় উঠতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়েতে হয়নি। তবে, নামার সময় ঘটে বিপত্তি। ভয়-উৎকণ্টায় কেটে যায় দেড় ঘণ্টা। এক জায়গায় আটকে থাকতে হয় মানবজটে, তাও উন্মুক্ত স্থানে। শুরু হয় তুষারঝড়। এভারেস্ট সামিটের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার আচরণ বড় কারণ। ‘প্রকৃতির উপর কারো হাত নেই। এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠার ‘এক্স ফ্যাক্টর’ আবহাওয়া। সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠার চেয়ে নেমে আসাই ছিল ‘চ্যালেঞ্জ’। অনেক মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি। প্রথমে নিজেকে সামলে নিলেও পরে সত্যিই মনে ভয় ধরেছিল।’
তবে, সৌভাগ্যক্রমে কোনোধরনের ক্ষতিছাড়া নামতে পেরেছি। মূলত নামার পথে তুষার ঝড়ে এক পর্বতারোহী আহত হন। তার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হয়। তবে আর কোনো দুর্ঘটনায় পড়তে হয়নি। কোনোধরনের ঝামেলা ছাড়াই ক্যাম্পে আসতে পেরেছি।
সবার মনে একটি সুপ্ত বাসনা থাকে সর্ব্বোচ উঁচু জায়গা থেকে পৃথিবী দেখার। এভারেস্টের চ‚ড়ায় আমি এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ছিলাম। পৃথিবী দেখতে আসলে সুন্দর। স্বচক্ষে দেখা ছাড়া অনুভূতি প্রকাশের নয়। তিব্বতের সাইড দেখে খুব ভালো লেগেছে।
আনন্দের সাথে জলবায়ু পরির্বতনের বিভৎস চিত্র দেখে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত দেশের হয়ে ষষ্ঠ এভারেস্ট জয়ী বাবর আলী। তুষারপাত না হওয়ায় এবার ব্লু আইস বেড়ে যায়। হিমালয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর লেক সৃষ্টি হয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার কারণেই এগুলো সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ যদি গেøাবাল ওয়ার্মিং দেখতে চান তার জন্য উত্তম জায়গা হচ্ছে হিমালয়।
স্বপ্নজয়ের যাত্রায় পৃষ্ঠপোষক সংগঠন এবং ক্রাউড ফান্ডিংয়ে অংশ নেওয়া শুভাকাঙ্খীদের কৃতিত্ব দিতে ভোলেনি বাবর আলী। এই সফলতা পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম। কৃতজ্ঞতা জানান নিজের ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’র প্রতি।
গত ১৯ মে ভোরে মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে উঠেন বাবর আলী। উড়ান বাংলাদেশের পতাকা। এর দুইদিন পর সাড়ে আট হাজার মিটার উচ্চতার আরেক শৃঙ্গ লোৎসে পর্বতে ওঠেন। দুই পর্বতে তার সঙ্গী ছিলেন নেপালের গাইড বাইরে তামাং।