বাজার ব্যবস্থায় নিয়ম প্রতিষ্ঠা জরুরি

7

বর্ষা ও লাগাতার বৃষ্টিজনিত কারণে কাঁচাবাজারে সব্জির দাম চড়া। এক সপ্তাহ ধরে নগরজুড়ে ঝরছে বৃষ্টি। এ বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। এতে বেড়েছে দাম। বেশিরভাগ সবজি ১০০ টাকা বা সেঞ্চুরি পার করেছে। এর মধ্যে বরবটি, করলা, বেগুনসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম ১২০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। একই সাথে শসা ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বাজারে মাছ-মুরগির দামও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের সবজির অতিরিক্ত দাম। মাছ ও মুরগির দামেও ঊর্ধ্বগতি। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে দামবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে বাড়তি দামে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
দেখা গেছে, প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, গাঁজর প্রতিকেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতিকেজি ১২০ টাকা, পটল প্রতিকেজি ৬০ টাকা, শসা প্রতিকেজি ১০০ টাকা, বরবটি প্রতিকেজি ১২০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতিকেজি ৬০ টাকা, ধুন্দল প্রতিকেজি ৬০ টাকা, কচুর লতি প্রতিকেজি ৮০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতিকেজি ৮০, গোল বেগুন প্রতিকেজি ১২০ টাকা, পেঁপে প্রতিকেজি ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ প্রতিকেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কচুর মুখি প্রতিকেজি ১০০ টাকা এবং কাকরোল প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু অভিজাত বাজারের চেয়ে সব্জি ফেরি ওয়ালার কাছে কিছুটা দাম কম।
অন্যদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, সোনালী মুরগি প্রতিকেজি ৩৪০ টাকা, কক প্রতিকেজি ৩৩০ টাকা, লেয়ার প্রতিকেজি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আগের বাড়তি দামেই প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায় এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১১০০ টাকায়। পাশাপাশি বাজারে সব ধরনের মাছের দামও বাড়তি যাচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি পাবদা বিক্রি ৫০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতিকেজি ৭০০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ প্রতিকেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া প্রতিকেজি ২৫০ টাকা, রুই প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, কাতল প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, কই প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, শিং মাছ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, টেংড়া প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বড় বোয়াল প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় আইড় মাছ প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বহদ্দারহাট বাজারে আসা শাহাদাত হোসেন বলেন, বাজারে সবজির এত দাম দেখে নিজেই হতাশ হয়েছি। অন্যসব ধরনের পণ্যের দামই আকাশ ছোঁয়া। সেই সঙ্গে আজ দেখছি সবজির দাম আরও বেড়ে গেছে। বরবটি করলা বেগুনসহ বেশ কয়েকটি সবজি দাম ১২০ টাকা হয়েছে। ১০০ টাকার ঘরে আছে শসা, কাকরোল। অন্যদিকে কাঁচা মরিচের কেজি দাঁড়িয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। মাছ মাংসের দাম তো আগে থেকেই বেশি সাধারণ মানুষ যে সবজি খাবে সেগুলোর দামও দেখছি আজ আকাশ ছোঁয়া হয়ে গেছে। যখন যেভাবে ইচ্ছা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, সেখানে ক্রেতাদের কিছুই বলার নাই, কিছুই করার নেই। কোন সাধারণ মানুষ এত দাম দিয়ে এগুলো কিনে খেতে পারবে না।
সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই সবজির কিছুটা বাড়তি দাম। তবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবজির দাম আরও বেড়েছে। আজ রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাইকারি সব সবজি কেনার অতিরিক্ত দাম লেগেছে। সে সাথে রাস্তার খরচ ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে খুচরা বাজারে এর দাম আরও বেড়ে গেছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা মো. আব্বাস বলেন, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে জমিতেই সব ধরনের সবজির গাছগুলো হেলে পড়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে কৃষকরা ফসলও তুলতে পারেনি কয়েকদিন। সবমিলিয়ে পাইকারি বাজারেই সব ধরনের সবজির সরবরাহ অনেক কম। যে কারণে হঠাৎ করেই সবজির দাম বেড়ে গেছে। বৃষ্টি শেষে আবার সবজি সরবরাহ ঠিক হলে দাম ফের কমে আসবে। এছাড়া অনেক সবজির ইতোমধ্যে মৌসুম শেষ হয়ে গেছে, শেষ সময়ের অল্প কিছু সবজি আসছে বাজারে। নতুন করে যখন আবার ফসল উঠতে শুরু করবে তখন ফের সবজির দাম কমে আসবে। যত প্রকার অজুহাত ব্যবসায়িরা উপস্থাপন করুকনা কেন ব্যবসায়িদের কারসাজি চলছেই। হঠাৎ ৮০ টাকার পেঁয়াজ ১০০টাকা কেন বিক্রি হচ্ছে তার কোন ব্যাখ্যা তারা দিচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা সবসময় কোন না কোন অজুহাত বের করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। প্রশাসনের উচিত এর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া।