বাজারে শীতকালীন সবজি বাড়লেও দাম নাগালে নেই

1

মনিরুল ইসলাম মুন্না

নগরীর বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির উপস্থিতি বাড়লেও ক্রেতাদের জন্য কিছুতেই তা সহজলভ্য হচ্ছে না। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, মুলা, লাউসহ শীতকালীন নানা সবজিতে বাজার সয়লাভ। কিন্তু দামের সঙ্গে যেন যুদ্ধ চলছে প্রতিদিনই। ক্রেতাদের অভিযোগ, নতুন মৌসুমের সবজি এলেও দাম কমে না, বরং বাড়ছে। শীতে এই সময়ে কম মূল্যে সবজি পাওয়ার কথা। কিন্তু তা একেবারেই নাগালের বাইরে। সবজির বাজারেওযে সিন্ডিকেটের প্রভাব পড়েছে তা কী আর বলার অপেক্ষা রাখে?
তবে বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া সরবরাহ বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা আছে। কেউ কেউ পাইকারী বাজারে রাজনৈতিক সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজিকেও মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে নগরের রেয়াজউদ্দিন বাজার ও চকবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ৪০ টাকা পিস, শিম মানভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, মুলা মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, লাউ ৪০, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৫০, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, জলপাই ৪০ টাকা কেজি। এই সময়ে শাক-সবজিসহ কাঁচাবাজার পণ্যের অনেক কম হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা অনেক বেশি বলে জানান ক্রেতারা।
বাজার করতে আসা ক্রেতা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘শীতকাল আসলে সবজির দাম কম থাকার কথা, কিন্তু এখনও দাম কমছে না। কবে দাম কমবে, তা কেউ জানে না’।
রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতা জয়নাল জানান, বাজার থেকে সবজি আনার খরচ ও বিভিন্ন খরচের কারণে দাম নির্ধারণ করতে তারা বাধ্য। তবে, দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
এদিকে, মুরগির বাজারেও চড়া দাম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪৫ টাকা। সোনালি মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম বৃদ্ধির জন্য মুরগি বিক্রেতারা ফিডের দাম বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন।
মুরগি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফিডের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচও বেড়েছে, আর তাই দাম বেড়েছে। এখন আমরা কিছু করতে পারি না’।
মাছের বাজারেও এক ধরণের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। ইলিশ মাছের দাম কেজি প্রতি ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, যা বেশিরভাগ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এছাড়াও রুই মাছ, রুই, কাতল, মৃগেল আকার ও মানভেদে কেজিতে ৩০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছের দামও ১৯০ থেকে ২৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ছোট মাছ যেমন কাঁচকি, মলা, পাবদা, গলদা চিংড়ির দামও চড়া।
মাছ বিক্রেতা আলিম উদ্দিন বলেন, ‘ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও পরিবহন খরচ ও জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় দাম কমছে না’।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘বাজার দর স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজার মনিটরিং চলছেই, সিন্ডিকেট যেন মাথাচাড়া না দেয় সে জন্য কাজ করছি’।
বাজারের এসব অস্থিরতা ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আশাহত হয়ে বলেছেন, ‘সবজির দাম কমলেই তো, অন্তত শীতকালীন সবজি কিনে ভালোভাবে খাওয়া যাবে। কিন্তু এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য চলা কঠিন হয়ে পড়বে’।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, পরিবহনখাত, কৃষিখাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেটই বাজার অস্থিতিশীল করার মূল কারণ। এসব খাতে চাঁদাবাজি-সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া গেলে এটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এদিকে, বাজারের এসব মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে ক্রেতা ও বিক্রেতারা, যাতে শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আসে।