বাইরে ঝকঝকে, ভেতরে আবর্জনার ভাগাড়

2

লোহাগাড়া প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে যে কেউ মনে করতে পারে এটি একটি মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অপরিচ্ছন্নতা, দায়িত্বহীনতা ও অমানবিক আচরণের এক নগ্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবিরূপে দেখা দেয় ভেতরকার চরম অব্যবস্থাপনা। হাসপাতালের ওয়ার্ডে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই নাকে আঘাত করে দুর্গন্ধ। মেঝে নোংরা, কেবিনের নিচে জমে থাকা আবর্জনা মনে হচ্ছে যেন সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিষ্কার করার কোনো উদ্যোগ নেই। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা টয়লেটগুলোর, এতোটাই নোংরা ও দুর্গন্ধময় যে সুস্থ মানুষ গেলেও অসুস্থ হয়ে পড়বেন নিশ্চিত।
একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ‘এটা হাসপাতালের পরিবেশ না, বরং নোংরার ভাগাড়ের মতো মনে হয়’। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নার্স, ওয়ার্ড বয় ও আয়াদের অসহনীয় রূঢ় আচরণ।অনেক রোগী অভিযোগ করেছেন, স্টাফরা চিকিৎসা সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন, রোগী বা স্বজনরা কিছু জানতে চাইলে বিরক্তি দেখান, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অশোভন আচরণের শিকার হতে হয়। রাতের শিফটে দায়িত্বে থাকা স্টাফদের উদাসীনতা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরের সৌন্দর্য করে রাখা হলেও ভেতরের বেহাল অবস্থা নিত্যদিনের বাস্তবতা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি এভাবে অবহেলা করা শুধু অনৈতিকই নয়, আইনগতভাবেও দন্ডনীয়। তারা অবিলম্বে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, স্টাফদের আচরণগত প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
লোহাগাড়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রটি এমন অব্যবস্থাপনায় চরম বিরক্ত রোগীরা। তাঁরা দ্রুত হাসপাতালের ভেতরকার অপরিচ্ছন্নতা, নোংরা পরিবেশ পরিবর্তন ও সেবার মানোন্নয়নের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাহিরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার প্রচার থাকলেও ভিতরে গিয়ে দেখা যায় শুধুমাত্র প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, মেট্রোনিড়াজল ও খাওয়ার স্যালাইন ছাড়া আর কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না।
এই ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে আমরা টয়লেটগুলো চেক করি কিন্তু যে মহিলা টয়লেটগুলো পরিষ্কার করে সে ২ দিন ধরে অসুস্থ। এজন্য একটু সমস্যা হচ্ছে। স্টাফ এবং নার্সরা যাতে রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করে সে বিষয়ে আমরা প্রায় সময় ওদেরকে এ ব্যাপারে কাউন্সিলিং করি। এখন এই ব্যাপারে আরও সতর্ক করব।