‘বাংলাদেশের লৌহ ও ইস্পাত শিল্পে বিশ্ববাজার সৃষ্টি হচ্ছে’

11

‘আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি হচ্ছে স্টিল। স্টিল ইন্ডাস্ট্রির কোয়ালিটি, ভ্যালু ক্রিয়েশন, বাজার সম্প্রসারণে এই ধরণের সামিট ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কেননা আমাদের দেশে জনপ্রতি স্টিল কনজামশান ১০০ কেজি। বাংলাদেশে এই খাতের বাজার সুবিশাল। দিন দিন বাংলাদেশের লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের বাজার এখন বিশ্ববাজারে স্থান করে নিচ্ছে। নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। লৌহ ও ইস্পাত শিল্পের বিশ্ববাজার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক। এটিকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া গেলে আগামিতে বাংলাদেশ এই খাতে বিশ্বে নেতৃত্ব দিবে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক ট্রেড সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।
পাঁচ তারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী এ সামিট উদ্বোধন করেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মুহম্মদ মিজানুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ খান হুমায়ুন।
সামিটে দেশ ও বিদেশে ব্যবহৃত লৌহ ও ইস্পাত, সিমেন্ট এবং পাওয়ার পণ্যের বিশ্বব্যাপী সম্ভাবনা, গুণগতমান, বর্তমান টেকসই প্রযুক্তি, আধুনিক মার্কেটিং পলিসি ইত্যাদি বিষয়ে বিদেশি ও দেশি বিশেষজ্ঞগণ একাধিক বিশেষ সেশনে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এই শিল্পের উপর বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু মূল্যবান পেপার উপস্থাপন করেন। সামিটে স্টিল লং ও ফ্ল্যাট প্রোডাক্ট, সিমেন্ট ও পাওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সেশনে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা দেয় বিশ্বখ্যাত সামিট আয়োজক ভারতের বিগমিন্ট। সম্মেলনের আয়োজ করে বাংলাদেশে বিগত ছয়টি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজক আহমেদ এন্টারপ্রাইজ।
দেশে গড়ে ওঠা শিল্পসমূহ কিভাবে উন্নতমানের পণ্য উৎপাদন করতে পারে সে বিষয়েও বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিশেষজ্ঞরা। এতে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্টলে পণ্য বিষয়ে বিষদ বর্ণনা দেওয়া হয়।
আমেরিকা, জার্মানী, বেলজিয়াম, ইতালি, ভিয়েতনাম, অষ্ট্রেলিয়া, ভারত, অষ্ট্রিয়া, তাইওয়ান, চীন, জাপান ও বাংলাদেশসহ প্রায় ২৫টি দেশের প্রতিনিধি সামিটে অংশগ্রহণ করেন। দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান পিএইচপি ফ্যমিলি, বিএসআরএম, রহিম স্টিল, আবুল খায়ের গ্রæপ, কেডিএস গ্রæপ, সালাম স্টিল, জেডএসআরএম, সিএসআরএমসহ অনেকগুলো দেশীয় প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে এতে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোরিয়ার পসকো, জাপানের সুমিতুমু কর্পোরেশন, মিটস্যুই, বিশ্ববিখ্যাত জার্মানীর হেনকেল, বদো মোলার, ইলেক্ট্রোথাম, ব্যুমার ও চায়নার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। তবে পুরো সামিটে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল বেশী।
শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ খান হুমায়ুন শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এ সামিটের জন্য সব ধরনের সহয়োগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি এ ধরনের ট্রেড সামিট আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ইসপান রিকটর স্পেনসেন, বিএসআরএম’র এমডি আমীর আলী হোসেইন, পিএইচপি ফ্যমিলির এমডি ইকবাল হোসেন, পরিচালক আমির হোসেন সোহেল, রহিম গ্রুপের চেয়ারম্যন মো মহসিন, সালাম স্টিলের এমডি মো. রেজাউল করিম, জেডএসআরএম এর চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।
সামিটের উদ্বোধক সুফি মুহম্মদ মিজানুর রহমান কুরআন হাদিসের উদ্ধৃতি এবং মনিষীদের বাণী উল্লেখ করে নতুন প্রজন্মকে বাসযোগ্য নিরাপদ সুখী-সমৃদ্ধ পৃথিবী উপহার দেওয়ার আহবান জানান। বিজ্ঞপ্তি