বাঁশখালীর রুবি হত্যার বিচার ৭ বছরেও হয়নি

6

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঁশখালীর পূর্ব চাম্বল এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে আগুনে পুড়িয়ে রুবি দেবী হত্যাকান্ডের বিচার সাত বছরেও শেষ হয়নি। তবে গত এপ্রিল মাসে নিহতের স্বামী হিরু রায় চৌধুরী (৪৬) ও জা টিটু প্রভা দেবী (৪০) কে গ্রেপ্তারের পর মামলার গতি ফিরেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে মামলাটির শুনানি হবে বলে জানিয়েছে বাদিপক্ষ।
নিহত রুবির বড় ভাই সুলাল নাথ পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমার বোনকে পুরো পরিবার নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তারা আমার বোনকে বাড়িতে খুন করে বাইরে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি সবাই জানলেও তারা বারবার আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে। মামলাটি পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করার পর আমাদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশনা দিলে দুইজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি আমার বোনের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। ইতোমধ্যে পিবিআই তদন্তে হত্যাকাÐের সত্যতা মিলিছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে বাঁশখালীর চাম্বলের হিরু রায় চৌধুরীর সাথে আনোয়ারার চাতরীর রমনী মোহন নাথের কন্যা রুবি দেবীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান আছে। দীর্ঘদিন সংসার করার পর আলাদা থাকা নিয়ে স্বামীর সাথে স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি হয়।একপর্যায়ে স্বামী হিরুসহ তার পরিবারের অপরাপর সবাই মিলে ২০১৭ সালের ২৩ মে বসতঘরে পিটিয়ে মারার পর গায়ে আগুন দিয়ে রুবির মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পর রুবির বাবা রমনী মোহন নাথ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন বিচার প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় এরই মধ্যে বাদী মারা গেলে মামলাটির বাদী হন রুবির মা অঞ্জনা দেবী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরিদর্শক মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা পূর্বদেশকে বলেন, ‘মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাক্ষ্য প্রমাণ ও আশপাশের মানুষের সাথে কথা বলে যতটুকু জেনেছি ঘটনাটি হত্যাকান্ড হলেও আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।’