নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন সেবাখাতে ৪১ শতাংশ বর্ধিত ট্যারিফ এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই ট্যারিফ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মেরিটাইম ল সোসাইটির (বিএমএলএস) দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী জিনাত হক এবং বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন আবদুল কাদের। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।
আদালত নৌপরিবহন সচিব, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের আদেশ বাস্তবায়ন এবং চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটকারীর আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ওই ট্যারিফ আদায় কবে থেকে কার্যকর হবে, তা উল্লেখ করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্কুলার দেয়। ওই সার্কুলারের কার্যক্রম এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। গড়ে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছিল। সার্কুলার স্থগিতের ফলে আপাতত এটি আদায় করা যাবে না।
তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী জানান, হাইকোর্টের স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
এর আগে বন্দর ব্যবহারকারীদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবাখাতে বর্ধিত ট্যারিফ গত ১৪ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে কার্যকর করা হয়। পরে বাংলাদেশ মেরিটাইম ল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন আবদুল কাদির তিনটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ দেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০ ফুট কনটেইনার প্রতি গড় চার্জ ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা করা হয়েছে। এতে আমদানি কনটেইনারে ৫ হাজার ৭২০ টাকা এবং রপ্তানি কনটেইনারে ৩ হাজার ৪৫ টাকা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এছাড়া জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামার প্রতি ইউনিট চার্জ ৪৩ দশমিক ৪০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ট্যারিফ মার্কিন ডলারে নির্ধারণ করায় ডলার-টাকা বিনিময় হারের ওঠানামায় ব্যয় আরও বাড়বে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ছাড়াও ভোগ্যপণ্য সরবরাহ, শিল্প কাঁচামাল, উৎপাদন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতিতে চাপ পড়বে।










