বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের আলোকে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস

184

ড. মো. মোরশেদুল আলম

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ছিল একটি অসম, অবৈজ্ঞানিক এবং কৃত্রিম রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু এ প্রসঙ্গে লেখেন, “পাকিস্তান হবে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী বা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান নাগরিক অধিকার থাকবে। দুঃখের বিষয়, পাকিস্তান আন্দোলনের যারা বিরুদ্ধাচরণ করেছিল, এখন পাকিস্তানকে ইসলামিক রাষ্ট্র করার ধুয়া তুলে রাজনীতিকে তারাই বিষাক্ত করে তুলেছে। মুসলিম লীগ নেতারাও কোনো রকম অর্থনৈতিক ও সমাজনৈতিক প্রোগ্রাম না দিয়ে একসঙ্গে যে স্লোগান দিয়ে ব্যস্ত রইল, তা হল ‘ইসলাম’। পাকিস্তানের শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ যে আশা ও ভরসা নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন, তথা পাকিস্তান আন্দোলনে শরিক হয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে কোন নজর দেওয়াই তারা দরকার মনে করল না। জমিদার ও জায়গিরদাররা যাতে শোষণ করতে পারে সে ব্যাপারেই সাহায্য দিতে লাগল। কারণ, এই শোষক লোকেরাই এখন মুসলিম লীগের নেতা এবং এরাই সরকার চালায়।”
বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারলেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে চক্রান্তের শুরু হলো। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর মতো মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশের অনেকের বিশ্বাস ছিল, পাকিস্তান একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে। কিন্তু বাস্তবে হলো এর উল্টোটাই। বঙ্গবন্ধু এ প্রসঙ্গে আরো লেখেন, “১৯৪৭ সালে যে মুসলিম লীগকে লোকে পাগলের মত সমর্থন করছিল, সেই মুসলিম লীগ প্রার্থীর পরাজয়বরণ করতে হল কি জন্য? কোটারি, কুশাসন, জুলুম, অত্যাচার এবং অর্থনৈতিক কোন সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ না করার ফলে। ইংরেজ আমলের সেই বাধাধরা নিয়মে দেশশাসন চলল। স্বাধীন দেশ, জনগণ নতুন কিছু আশা করেছিল, ইংরেজ চলে গেলে তাদের অনেক উন্নতি হবে এবং শোষণ থাকবে না। আজ দেখছে ঠিক তার উল্টা। জনগণের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল। এদিকে ভ্রƒক্ষেপ নাই আমাদের শাসকগোষ্ঠীর। জিন্নাহর মৃত্যুর পর থেকেই কোটারি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়েছে। লিয়াকত আলী খান এখন সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী। তিনি কাউকেও সহ্য করতে চাইছিলেন না। যদিও তিনি গণতন্ত্রের কথা মুখে বলতেন, কাজে তার উল্টা করছিলেন।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষার প্রশ্নে সর্বদাই আপসহীন ছিলেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে তিনি লেখেন, “বাংলা পাকিস্তানের শতকরা ছাপ্পান্ন ভাগ লোকের মাতৃভাষা। তাই বাংলাই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত। তবুুও আমরা বাংলা এবং উর্দু দুইটা রাষ্ট্রভাষা করার দাবি করেছিলাম। পাঞ্জাবের লোকেরা পাঞ্জাবি ভাষা বলে, সিন্ধুর লোকেরা সিন্ধি ভাষায় কথা বলে, সীমান্ত প্রদেশের লোকেরা পশতু ভাষায় কথা বলে, বেলুচরা বেলুচি ভাষায় কথা বলে। উর্দু পাকিস্তানের কোনো প্রদেশের ভাষা নয়, তবু যদি পশ্চিম পাকিস্তানের ভায়েরা উর্দু ভাষার জন্য দাবি করে, আমরা আপত্তি করব কেন?” তিনি আরো বলেন, “দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে। আরব দেশের লোকেরা আরবি বলে। পারস্যের লোকেরা ফার্সি বলে, তুরস্কের লোকেরা তুর্কি ভাষা বলে, মালয়েশিয়ার লোকেরা মালয়া ভাষায় কথা বলে, চীনের মুসলমানরা চীনা ভাষায় কথা বলে।….শুধু পূর্ব পাকিস্তানের ধর্মভীরু মুসলমানদের ইসলামের কথা বলে ধোঁকা দেওয়া যাবে ভেবেছিল, কিন্তু পারে নাই। যে কোনো জাতি তার মাতৃভাষাকে ভালবাসে। মাতৃভাষার অপমান কোন জাতিই কোনো কালে সহ্য করে নাই।” ভাষা আন্দোলনে প্রথম কারাবন্দিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন। এ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার জন্য পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে বিনাবিচারে বঙ্গবন্ধুকে দুই বছরের অধিক সময় কারাগারে বন্দি রাখা হয়।
শামসুল হক চৌধুরী, গোলাম মাওলা, আবদুস সামাদ আজাদের মাধ্যমে একুশে ফেব্রæয়ারি দেশব্যাপী হরতালের প্রতি বঙ্গবন্ধু সমর্থন জানিয়েছেন বলে জেলখানা থেকে খবর পাঠান। একটি উপদেশও বঙ্গবন্ধু সেদিন তাঁদের মাধ্যমে দিয়েছিলেন। মিছিল করে আইনসভা ঘেরাও করা এবং বাংলা ভাষার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইনসভার সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করার জন্য তিনি বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু আরো একটি খবর পাঠিয়েছিলেন যে, তিনি এবং মহিউদ্দিন সাহেব সকল রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে জেলখানায় আমরণ অনশন করবেন। জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর পূর্ববাংলায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাই ১৮ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফরিদপুর জেলে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জ স্টিমার ঘাটে শামসুদ্দোহাসহ কয়েকজন ছাত্রনেতার সঙ্গে দেখা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধু তাঁদের বলেন যে, “যেন একুশে ফেব্রæয়ারিতে হরতাল-মিছিল শেষে আইনসভা ঘেরাও করে বাংলা ভাষার সমর্থনে সদস্যদের স্বাক্ষর আদায় করা হয়”। জেলখানায় আমরণ অনশন প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু লেখেন, “আমাকে যখন জেল কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করল অনশন ধর্মঘট না করতে, তখন আমি বলেছিলাম, ছাব্বিশ-সাতাশ মাস বিনাবিচারে বন্দি রেখেছেন। কোনো অন্যায়ও করি নাই। ঠিক করেছি জেলের বাইরে যাব, হয় আমি জ্যান্ত অবস্থায় না হয় মৃত অবস্থায় যাব। “ঊরঃযবৎ ও রিষষ মড় ড়ঁঃ ড়ভ ঃযব লধরষ ড়ৎ সু ফবধফনড়ফু রিষষ মড় ড়ঁঃ.” জেলখানায় অনশনে যাওয়ার পূর্বে বঙ্গবন্ধু তাঁর মনের অবস্থা এভাবে ব্যক্ত করেন, “…একদিন মরতেই হবে। অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে যদি মরতে পারি, সে মরাতেও শান্তি আছে।” বঙ্গবন্ধু যদি জেলখানায় না থাকতেন, হয়তো পুলিশের গুলিতে সেদিন তিনিও শহিদ হতেন।
২১ ফেব্রæয়ারি ছাত্রসমাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে সরকারের জারিকৃত ১৪৪ ধারাভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার সভায় গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ২১ ফেব্রæয়ারি পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৪৪ ধারা জারির কারণে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ছাত্রজনতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমায়েত হতে শুরু করে। ছাত্ররা মিছিল নিয়ে সেøাগান দিতে দিতে প্রাদেশিক পরিষদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাঁদের বাধা দিতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ শুরু করে এবং গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুস সালাম, শফিকুর রহমানসহ নাম না জানা বেশ কয়েকজন শহিদ হন। এছাড়াও অনেকে আহত এবং বন্দি হন।
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজধানী এবং অন্যান্য প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকেন্দ্রসমূহ পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থিত ছিল। বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে লেখেন, আমরা স্বাধীন হয়েছি ১৯৪৭ সালে আর চীন স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৯ সালে। যে মনোভাব পাকিস্তানের জনগণের ছিল, স্বাধীনতা পাওয়ার সাথে সাথে আজ যেন তা ঝিমিয়ে গেছে। সরকার তা ব্যবহার না করে তাকে চেপে মারার চেষ্টা করেছে। আর চীনের সরকার জনগণকে ব্যবহার করছে তাদের দেশের উন্নয়নমূলক কাজে। তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য হল, তাদের জনগণ জানতে পারল ও অনুভব করতে পারল এই দেশ এবং এদেশের সম্পদ তাদের। আর আমাদের জনগণ বুঝতে আরম্ভ করল, জাতীয় সম্পদ বিশেষ গোষ্ঠীর আর তারা যেন কেউই নন। পাকিস্তানের উভয় অংশে শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়, জনগণের শিক্ষার সুযোগ, চাকুরির হার, কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব আয়-ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের ব্যবহার প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে পূর্বাংশের জনগণের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে লেখেন, “অন্যদিকে পূর্ববাংলার বৈদেশিক মুদ্রা থেকে প্ল্যান-প্রোগ্রাম করেই পশ্চিম পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে উঠতে সাহায্য করতে লাগল। ফলে একদল শিল্পপতি গড়ে তুলতে শুরু করল, যারা লাগাম ছাড়া অবস্থায় যত ইচ্ছা মুনাফা আদায় করতে লাগল জনসাধারণের কাছ থেকে এবং রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেল। করাচি বসে ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট ব্যবসার নাম করে লাইসেন্স বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করে আস্তে আস্তে অনেকে শিল্পপতি হয়ে পড়েছেন। এটাও মুসলিম লীগ সরকারের কীর্তি এবং খাজা সাহেবের দুর্বল নেতৃত্বও এর জন্য কিছুটা দায়ী। কারণ তিনি কোনোদিন বোধহয় সরকারি কর্মচারীদের অযৌক্তিক প্রস্তাবও প্রত্যাখান করতে পারেন নাই।”
পশ্চিম পাকিস্তানে কৃষির উন্নতির জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য সে তুলনায় কিছুই করা হয়নি। বঙ্গবন্ধু এ প্রসঙ্গে লেখেন, “এদিকে পূর্ব বাংলার সম্পদকে কেড়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে কত তাড়াতাড়ি গড়া যায়, একদল পশ্চিমা তথাকথিত কেন্দ্রীয় নেতা ও বড় বড় সরকারি কর্মচারী গোপনে সে কাজ করে চলেছিল। তাদের একটা ধারণা ছিল, পূর্ববাংলা শেষ পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে থাকবে না। তাই যত তাড়াতাড়ি পারা যায় পশ্চিম পাকিস্তানকে গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগ যখন হিসাব-নিকাশ বের করে প্রমাণ করল যে, পূর্ববাংলাকে কি করে শোষণ করা হচ্ছে তখন তারা মরিয়া হয়ে উঠল এবং আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর চরম অত্যাচার করতে আরম্ভ করল। এদিকে জনগণ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠান ও সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠছিল। পূর্ব বাংলায় তখন মুসলিম লীগের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে।”
১৯৫৪ সালের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ শোচনীয় পরাজয় বরণ করে, অন্যদিকে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে লেখেন, “মুসলিম লীগ জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই দলটার কোনো নীতির বালাই নাই। ক্ষমতায় বসে করে নাই এমন কোন জঘন্য কাজ নাই। পরিষ্কারভাবে জনগণ ও পূর্ববাংলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই দল হতে যে লোকগুলি বিতাড়িত হয়েছিল তারা এই জঘন্য দলের সভ্যদের মধ্যেও টিকতে পারে নাই। এরা কতটুকু গণবিরোধী হতে পারে ভাবতেও কষ্ট হয়। এরা নীতির জন্য বা আদর্শের জন্য মুসলিম লীগ ত্যাগ করে নাই, ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল ক্ষমতার লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে। এই বিতাড়িত মুসলিম লীগ সভ্যরা পাকিস্তান হওয়ার পরে একদিনের জন্যও সরকারের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করে নাই। এমনকি সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধাও গ্রহণ করেছে।” ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় প্রসঙ্গে অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু লেখেন, দুনিয়ার ইতিহাসে একটা ক্ষমতাসীন দলের এভাবে পরাজয়ের খবর কোনোদিন শোনা যায় নাই। বাঙালিরা রাজনীতির জ্ঞান রাখে এবং রাজনৈতিক চেতনাশীল। এবারও তারা তার প্রমাণ দিল। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান ইস্যুর উপর সাধারণ নির্বাচনেও তারা তা প্রমাণ করেছিল। এবারের নির্বাচনে মুসলিম লীগের অনেক বড় বড় এবং হোমরাচোমরা নেতারা, এদের মধ্যে অনেকেই আবার কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন, যাঁরা শুধু পরাজিতই হন নাই, তাঁদের জামানতের টাকাও বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এমনকি পূর্ববাংলার প্রধানমন্ত্রী জনাব নূরুল আমিনও পরাজিত হন। এতে শাসকগোষ্ঠী, শোষকগোষ্ঠী এবং আমলারা অনেকেই ঘাবড়িয়ে গিয়েছিলেন।….তাঁরা চক্রান্তমূলক নতুন কর্মপন্থা গ্রহণ করতে চেষ্টা করতে লাগলেন-বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরাÑযাঁরা পূর্ব বাংলায় কারখানা ও ব্যবসা পেতে বসেছেন এবং যথেষ্ট টাকাও মুসলিম লীগকে প্রকাশ্যভাবে দিয়ে সাহায্য করেছেন তারা ভয়ানক অসুবিধায় পড়ে গেলেন। তাঁরা জানেন, তাঁদের পিছনে দাঁড়াবার জন্য এখনও কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিম লীগের হাতে আছে। যাঁরা পরাজিত হলেন তাঁরা গণতান্ত্রিক পন্থায় বিশ্বাস কোনোদিন করতেন না, তাই জনগণের এই রায় মেনে নিলেন না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আরম্ভ করলেন।