ফজলুল্লাহ’র দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দাবি ক্যাবের

1

নিজস্ব প্রতিবদক

অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিতর্কিত ও নানা অনিয়মে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহর আমলে সংঘটিত সকল দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা ও তার দেশত্যাগে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করেন দেশের ক্রেতা ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ গতকাল এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া প্রায় সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল ও অনেকেই পদ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও বিগত সরকারের আমলে ৮ দফায় ১৬ বছর অবৈধভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি পদ না ছেড়ে নানা চক্রান্তে নিয়োজিত থেকে নির্লজ্জভাবে বেহায়ার মতো চট্টগ্রাম ওয়াসাকে অনিয়ম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যসহ নিজের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। এই সময়ের মধ্যে ১৪ বারের বেশি পানির দাম বাড়িয়ে চট্টগ্রামবাসীর উপর অতিরিক্ত দামের বোঝা চাপিয়েছেন। এখনো শহরের এক তৃতীয়ংশ মানুষ ওয়াসার পানি পায় না, আর ময়লা, লবণাক্ত পানির যন্ত্রণা ও ভুতুড়ে বিলের যন্ত্রণায় জর্জরিত। ওয়াসার বাস্তবায়ন করা ও চলমান প্রতিটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। সর্বশেষ নিজের আত্মীয় স্বজনকে পদোন্নতি দেয়া, এমনকি নিজের মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে সুয়্যারেজ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ দেয়াসহ হাজারো অনিয়মে জড়িত। ইতিমধ্যেই তার আত্মীয় ও ওয়াসা অনেক কর্মকর্তা দেশত্যাগ করেছেন। অপসারিত এমডি ফজলুল্লাহ যে কোনো সময় দেশ ত্যাগ করতে পারেন। তাই অতি দ্রæত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা না হলে আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী এমপিদের মতো পালিয়ে যাবে।
এতে বলা হয়, বহু বিতর্কে ও অনিয়মে জড়িত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চট্টগ্রামবাসীকে একজন দুর্নীতিবাজ বহু অনিয়মের হোতাকে অপসারণ করে ওয়াসার মতো একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের অপশাসন ও দুঃশাসনের কবল থেকে উদ্ধার করলেন। চট্টগ্রামবাসীকে একজন স্বৈরশাসকের দোসর হতে উদ্ধার করে ওয়াসাকে জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সুযোগ করে দিলেন। বিগত সরকারের আমলে এই বিতর্কিত এমডির বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ থাকলেও সেই অভিযুক্ত এমডিকে স্বপদে বহাল রেখে বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবস্থাপনায় তদন্ত টিম তদন্ত কার্য সম্পাদন করে পরে তাকে ক্লিন সনদ প্রদান করে জনগণের সাথে তামাশা করেছেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রেসিডেন্ট আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রæপ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, ক্যাব যুব গ্রæপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।