পূর্বদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য যে ধরনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকা তরকার, সেটি দেখতে পাচ্ছেন না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহŸায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। চট্টগ্রামে এক জামায়াত নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে যে প্রশাসনকে কীভাবে দখল করতে হবে, প্রশাসনকে কীভাবে হাতে রাখতে হবে’।গতকাল রবিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। খবর বিডিনিউজের
এর আগে শনিবার রাতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়; যা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াতে ইসলামী। ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াতের চট্টগ্রামের নেতা শাহাজাহান চৌধুরী বলছেন, ‘আমিরে জামাত যদি থাকত, আমি বলতাম: নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়, প্রশাসনকে অবশ্যই, প্রশাসনকে অবশ্যই, আমি ন্যাশনালি বলব না, যার যার নির্বাচনী এলাকায়, প্রশাসনের যারা আছে তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে, আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা…’
তিনি ওই বক্তব্য দেন তার দলের ‘নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলন’-এ; অর্থাৎ উপস্থিত নেতৃবৃন্দই দলটির হয়ে নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভ‚মিকা রাখবেন।
শাহাজাহান চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচন মানে কেবল জনগণ বা পার্টি না, প্রশাসনরে রাখা লাগবে হাতের মুঠোয়’।
সেই প্রসঙ্গ ধরে গতকাল রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুবই উদ্বেগ জানাচ্ছি যে নির্বাচনের জন্য যে ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কথা, সেই ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি না’।
জুলাই সনদ নিয়ে দর কষাকষির জেরে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, তারা একসময় ‘বন্ধু ছিল’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা কিন্তু একটা চক্রান্ত করছে’। কী সেই চক্রান্ত, তা স্পষ্ট না করলেও আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচনি অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম যে বাংলাদেশের যে নির্বাচনী সংস্কৃতি, যেখানে জবরদখল, প্রশাসনের দখল এবং টাকার ব্যবহার, মাসল পাওয়ারের ব্যবহার ইত্যাদি নির্বাচনে আমরা সবসময় দেখে এসেছি। শুনে এসেছি এর আগের সময়গুলোতে। এবং এর আগের ফ্যাসিবাদী সময়ে তো মানুষ ভোট দিতেও যেতে পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক তরুণ এবং স্বপ্নবাজ দেশপ্রেমিক মানুষরা সংসদে আসবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা’।
কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে বাধা দেখার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, ‘নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের এবং সরকার ও প্রশাসনের যে শক্ত ও স্বচ্ছ অবস্থায় থাকা প্রয়োজন, সেটা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না’।










