প্রমাণিত হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে সমবায় অফিসার

1

ঈদগাঁও প্রতিনিধি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় অফিসের কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক ক্রয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। আনুষঙ্গিক ক্রয় নিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে টাকার একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে- এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও সমবায় কর্মকর্তা মো. দিদারুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে স্মারকমূলে অফিসের কম্পিউটার আনুষঙ্গিক মালামাল ক্রয়ের নামে বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ খরচ দেখান সমবায় অফিসার দিদার। এমনকি ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নেই এবং কিছু খাতে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। এমনতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লিখিত চিঠি দিয়েছেন জেলা সমবায় অফিসার মোস্তফা কামাল। চিঠিতে তিনি আত্মসাৎকৃত ৪২ হাজার ২২৬ টাকা সরকারি কোষাগারে জমাদান করে জেলা অফিসে স্লিপ জমাদানের নির্দেশও দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, দরপত্রের তুলনায খরচ কয়েক গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। সন্দেহ করছি এখানে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। দেখানো এই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন সমবায় কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। এসব অভিযোগের বেশ কিছু প্রমাণ জেলা সমবায় অফিসারের কাছে রয়েছে। যা এখনো প্রকাশ হয়নি। যার কারনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয়-জেলা অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আস্কারায় তিনি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
একাধিক সমবায়ীরা বলেছেন, সমবায় অফিসার দিদারের বিরুদ্ধে স¤প্রতি সময়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রশাসন লিখিত অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করেন। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু এ কর্মকর্তার বেলায় সবই উল্টো হচ্ছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন সমিতির সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা সরকারি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দ্রæত সময়ের মধ্যে বিভাগীয় শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এদিকে তার অধীনে গোমাতলী সমবায় কৃষি ও মোহাজের উপনিবেশ সমিতির ২৪-২৫ সালের অডিট দলনেতা পরিবর্তন চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন সমিতির সংক্ষুব্ধ সদস্য সাজ্জাদুল করিম গং। ঐ চিঠির আলোকে যুগ্ম নিবন্ধক, চট্টগ্রাম কর্তৃক জেলা সমবায় অফিসার কক্সবাজারকে পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেও সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী হিসাবে প্রমাণিত দিদারুল ইসলামকে দলনেতা পদে বহাল রেখে তা উপেক্ষা করে একটি পুতুল/অডিট কমিটি দিয়ে সমিতির সর্বনাশের পাঁয়তারা করছেন বলে জানা গেছে।