প্রভাব খাটিয়ে ভবন দখল, লুটপাট

4

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর খুলশী গরীবুল্লাহ হাউজিং সোসাইটিতে প্রভাব খাটিয়ে সাততলা ভবন ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আহামদ হোসেন। তিনি গরীবুল্লাহ হাউজিং সোসাইটির খলিলুর রহমানের ছেলে।
যার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ, সেই মীর জহির মোহাম্মদ খান ওরফে ছগীর নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর রোডের ৩০৯ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল এলাকার মৃত মীর ওমর আলী খানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, যখন এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল তখন পুলিশের একজন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সামনে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই পরিবারের ঘরটি দখল করেই ছাড়েন জাকির হোসেন।
আহামদ হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ১৯৯১ গরীবুল্লাহ হাউজিং সোসাইটির ১১২৯ হোল্ডিংয়ে কবলামূলে ১০ গন্ডা জমি কিনে। তবে এক বছর পর ১৯৯২ সালে সেখান থেকে ৬ গন্ডা জমি বিক্রি করে। অবশিষ্ট ৪ গন্ডা জমি নামজারি করে সিডিএ’র ম্যাপ অনুযায়ী ৭ তলা ভবন নির্মাণ করে। পাশপাশি কিছু জমিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দিই। এই পর্যন্ত তারা সিডিএ’র ম্যাপ, অনুমতি পত্র, সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং, বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাস ও পানি সংযোগসহ সরকারের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করেই বসবাস করছে। তবে ঝামেলার সৃষ্টি ২০০৬ সালে। তখন গরীবুল্লাহ হাউজিং এলাকায় ৫ গন্ডা জমি কিনেন মীর জহির। দলিলে তার আরএস দাগ ১৫০২ এবং বিএস দাগ ৬৫৩ ব্যবহার করলেও দলিলের খসড়া মানচিত্রে বিএস দাগ চিহ্নিত নেই। তার বায়ার মূল বিএস খতিয়ান ৬৫৩ এবং আমার স্ত্রীর বায়ার মূল খতিয়ান ৮০৭। মীর জহিরের খরিদা কবলার সময় ২০০৬ সাল। আর আমাদের খরিদা কবলার সময় ১৯৯১। দীর্ঘ ১৬ বছর পরের খরিদা কবলা উপস্থাপন করে আমাদের খরিদা জায়গা তারা খরিদা হিসাবে মিথ্যাচার করে প্রচারণা করছে। ওই ভূমি সংক্রান্তে বিবাদী ম্যাজিস্ট্রেট, জজ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, দেওয়ানী আদালত, সিএমএম আদালত, বিদ্যুৎ অফিস, সিটি কর্পোরেশন অফিস, দুদক, ভূমি অফিস, থানাসহ বিভিন্ন স্থানে আমার বিরুদ্ধে ৩৮টি মিথ্যা অভিযোগ করে আসছে। যার প্রত্যেকটিতেই আমরা রায় পেয়েছি, তারা হেরে গেছে।’
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘এরপরও সুপ্রিম কোর্টের মামলা চলমান অবস্থায় গত ৯ নভেম্বর সকাল ৮টায় মীর জহির মোহাম্মদ খান ও তার ছেলে মোহাইমিনুল আহবার খানের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জন নারী-পুরুষ আমার বাড়িতে আসেন। বাড়ির তালা ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করেন। আমাকে এবং আমার পরিবারের সকলকে জিম্মি করে তারা ৩টি মোবাইল, নগদ ছয় লাখ টাকা, ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন জমির কাগজপত্রসহ ডকুমেন্ট লুট করে নিয়ে যায়। এসময় তারা ৪টি সিসি ক্যামেরা, একটি হার্ডডিস্ক ভেঙে ফেলে। আমার ভাইকেও মারধর করে। মীর জহির তার সাথে আসা ১৫ খেকে ২০ জন মহিলাকে আমার বাড়িতে ঢুকিয়ে দেন। তারা তখন থেকে জোরপূর্বক আমার বাড়িতে অবস্থান করছেন।’
তিনি আরো জানান, ‘পরে আমার মেয়ে শিক্ষানবীশ আইনজীবী আয়শা খুলশী থানায় পুলিশকে ফোন করলে থানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে আসে। তারা সরেজমিনে ঘটনা দেখলেও তারা মীর জহির ও তার সঙ্গীদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করে। শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে দ্বারস্থ হলে একজন উপ-পুলিশ কমিশনার, একজন সহ-পুলিশ কমিশনার এবং খুলশি থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্সসহ হাজির হয়ে মীর জহির, মীর মোহাইমিনুল আহবার খান, মো. ইব্রাহিম এবং ৯ মাহিলাসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ঘটনার বাস্তবতা অনুযায়ী মামলায় কোন ধারা সন্ধিবেশিত করে নাই। কোন রিমান্ড প্রেয়ার দেয় নাই। গ্রেপ্তারকৃত ৯ মহিলার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া থানায় দেখালেও তারা কি কারণে এখানে আসল, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে নাই। জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক রহস্য উদঘাটিত হত। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা হয়নি। মীর জহির পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতিতে আমার ঘর দখল করার হুমকি প্রদান করে। বিবাদী ও তার সঙ্গীয়দের আস্ফালনে আমরা আজ অসহায়। আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাসমূহের দৃষ্টি কামনা করি। মীর জহির জাকির হোসেন মার্ডারসহ ৩৩টি ফৌজদারী মামলার আসামি। ফলে আমি জীবন ও সম্পদহানির শংকায়।’