প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দু’দেশের বন্ধুত্বের জন্য আশাব্যঞ্জক

4

চীন বাংলাদেশের উন্নয়নসহযোগী ও বন্ধুরাষ্ট্র। দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল স্থাপন ,চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ দেশের বহু উন্নয়ন কর্মকান্ড দেশে চলমান রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, আর্থিক সহায়তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে গতকাল সোমবার চীন সফরে গেছেন। সরকার প্রধানের তিন দিনের এই সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সেখানে প্রায় ২০টির মত সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে এবং কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা হবে। খবর বিডিনিউজের।
অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল ইকোনমি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি খাতে সহায়তা, ষষ্ঠ ও নবম বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি প্রভৃতি রয়েছে সমঝোতা স্মারকের তালিকায়।
তবে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অর্থায়নের বিষয়টি এ সফরে চ‚ড়ান্ত হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে চীন চাইলে আলোচনা হবে।
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, তিস্তা নদী দুই দেশের যৌথ নদী, ভারত বাংলাদেশের যৌথ নদী। এই যৌথ নদীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারত একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং একইসাথে ভারত একটি কারিগরি দল পাঠাবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে। সমীক্ষার ব্যাপার আছে।
ভারত প্রস্তাব দিয়েছে। যেহেতু যৌথ নদী, সেটি আমাদেরকেতো প্রথমে সেই প্রস্তাবটা বিবেচনা করতে হবে, স্বাভাবিকভাবেই। চীনও এক্ষেত্রে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি খুব ভালো। যেহেতু ভারত প্রস্তাব দিয়েছে এটি ভালো দিক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে তিনি দেশ ত্যাগ করবেন এবং একই দিন চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৬টায় বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক অভ্যর্থনা জানানো হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিন সাং-গ্রি-লা সার্কেলে অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। ওই সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল চীন সফর করবে।
একইদিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী চায়নিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসাল্টেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) চতুর্দশ জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
অপরদিকে বিকালে ঐতিহ্যবাহী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাতে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন। সফরের তৃতীয় দিন বুধবার চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধান লি চিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলসহ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এরপর শেখ হাসিনা ও লি চিয়াংয়ের উপস্থিতিতে ২০টির মত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং কিছু প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত ভোজের মধ্য দিয়ে গ্রেট হলে ওই সাক্ষাতের আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১০ জুলাই বিকেলে চীনের গ্রেট হলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফর উপলক্ষে বাংলাদেশ ও চীন একটি যৌথ বিবৃতি দেবে। ১১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীন ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টায় তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধুর চীন সফর এবং পরে ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশকে চীনের স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান বলেন, এর ধারাবাহিকতায় দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উন্নয়নের পথে অগ্রসরমান আছে। ২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ‘কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়। তিনি বলেন, গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হবার পর প্রধানমন্ত্রীকে চীনের পক্ষ থেকে সরকারি সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়।
চীন বাংদেশের অবকাঠামোগত এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, আর্থিক সহায়তা এবং বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ চীনের সহায়তা কামনা করবে। একই সাথে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চীনের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ চীনের প্রতি সমর্থন প্রদান করে যাবে। দেশের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দেশের নাগরিকরা আশা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা রাখবে।