‘প্রথম ধাক্কাটা ভালোভাবেই সামাল দেয়া হয়েছে’

39

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ‘সীতাকুন্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও তিন রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া জরুরি। এই রোগীদের শরীর ফুলে যাচ্ছে। তাদের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সে জন্য বার্ন আইসিইউতে নিতে হতে পারে। এ কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাঁয় মিললে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাই। এছাড়া হাসপাতালটিতে কিছু রোগী আছে যাদের ছেড়ে দেওয়া যায়। তাদের চোখে সমস্যা হয়েছে। তাদেরকে চোখের চিকিৎসক দেখাতে হবে।’ গতকাল সোমবার চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ রোগীদের পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘অযথা হাসপাতালে কেউ যেন ভিড় না করে। দগ্ধ রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভয়ের কারণ হচ্ছে সংক্রমণ। সংক্রমণ হলে দগ্ধ রোগীদের কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব না। সেজন্য অযথা কেউ ভিড় করে দগ্ধ রোগীদের ঝুঁকির কারণ হবেন না।’
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা প্রথম ধাক্কাটা খুব ভালোভাবে সামলে নিয়েছে। ঘটনার পরদিন প্রধানমন্ত্রী আমাকে মেসেজ করে চট্টগ্রাম যেতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা চট্টগ্রাম এলাম।’
চট্টগ্রামে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্বতন্ত্র বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালের জন্য একটি জায়গা প্রাথমিকভাবে চীনের পছন্দ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষায়িত বার্ন হাসপাতাল করার জন্য ১৫ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চট্টগ্রামে হাসপাতালের জায়গা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। এখন নতুন করে চারটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি জায়গা অর্থ সহায়তাকারী চীনের পছন্দ হয়েছে।’
হাসপাতালের প্রধান ছাত্রাবাসের পাশে গোয়াছি বাগান এলাকায় ১০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়। শিগগির চীন থেকে তাদের প্রতিনিধি আসবে বলে জানান সামন্ত লাল সেন।
সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে খুব ভালো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সবধরনের সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই। বার্ন এর আইসিইউ আলাদা রয়েছে। এখানে জেনারেল আইসিইউতে তাদের রাখা হয়েছে। তাছাড়া বার্ন এর রোগীদের জন্য আইসিইউসহ যে অবকাঠামো প্রয়োজন তা চট্টগ্রামে নেই। তবে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা খুব ভালো সেবা দিচ্ছেন।’
আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া হাসপাতালে নেতা-কর্মীদের অহেতুক ভিড় না করার নির্দেশ দেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১০২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এছাড়া সিএমএইচ এ ১৪ জন, জেনারেল হাসপাতালে ২ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ১১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সামন্ত লাল সেন গোয়াছি বাগান এলাকায় হাসপাতালের জন্য পছন্দ করা জায়গাটি পরিদর্শনে যান। এসময় আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।