পিসিটিতে কার্যক্রম শুরু করল বিদেশি অপারেটর

9

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে চুক্তির দীর্ঘ ছয় মাস পর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে বিদেশি এই অপারেটরের অধীনে প্রথমবারের মতো ভিড়েছে বাণিজ্যিক জাহাজ মায়েরস্ক দাভাও। এর মধ্য দিয়ে বন্দরে প্রথমবারের মতো বিনিয়োগ নিয়ে আসা বিদেশি অপারেটর তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠান মার্কস লাইনের মালিকানাধীন এমভি ‘মায়ের্কস দাবাও’ নামে জাহাজটি পিসিটিতে ভিড়েছে। এরপরই জাহাজটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কার্যক্রম শুরু করেছে বিদেশি অপারেটর আরএসজিটি।
আজ মঙ্গলবার ৮০০ টিইইউএস রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার বেলাওয়ান বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবে। এর মধ্যদিয়ে ‘ল্যান্ড লর্ড পোর্ট’ ধারণায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর।
পিসিটিতে প্রথমবারের মতো জাহাজের অপারেশন উপলক্ষ্যে আরএসজিটি গতকাল সোমবার বিকালে পিসিটিতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল, আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরউইন হেইজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি প্রথমবারের মতো অপারেশনে যাচ্ছে। এজন্য মার্কসলাইনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। শর্ত অনুযায়ী বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করবে। এজন্য আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। তাদের কাছ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর নির্দিষ্ট হারে চার্জ পাবে। আরএসজিটির প্রথম অপারেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ল্যান্ডলর্ড পোর্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
তিনি বলেন, আগামী ২২ বছর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালটি আরএসজিটি অপারেট করবে। এরইমধ্যে অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করি এভাবে বিদেশি বড় বড় পার্টনারদের সঙ্গে আমরা কাজ করব। যাতে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার অনেকগুণ বেড়ে যাবে। আমাদের অনেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। নতুন প্রযুক্তি এখানে আসছে, আরও আসবে। প্রযুক্তিগতভাবে আমরা লাভবান হব। এখানে কাজ করে আমাদের লোকজন দক্ষ হবে। দেশে-বিদেশে তাদের চাহিদা বেড়ে যাবে। ল্যান্ডলর্ড প্রক্রিয়ায় বন্দর চলে বিশ্বজুড়ে। আমরা পিসিটি দিয়ে সে প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
অনুষ্ঠানে আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিউন হেইজ বলেন, বন্দরে মায়ের্কস দাবাও নামের একটি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে আমরা আত্মপ্রকাশ করেছি। আমরা পুরো কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করব, আগামীতে সব অপারেশনে আমরা সকলের সহযোগিতা পাব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনায় প্রথমবারে মতো সক্ষমতার প্রতিযোগিতায় নামবে দেশি ও বিদেশি অপারেটর। বন্দরে এ ধরনের প্রতিযোগিতা বাড়লে পণ্য পরিবহন খরচ যেমন কমবে, তেমনি সেবার মান ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পিসিটি নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারিতে শুরু হয় নির্মাণকাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে পিসিটি নির্মাণ করে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হলেও নানা কারণে চালু হয়নি টার্মিনালটি। এরপর ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। ডিসেম্বরে নতুন টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃপক্ষ রেড সী গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামে সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ২২ বছর পরিচালনার জন্য চুক্তি করে।
এছাড়া পিসিটিতে তিনটি কন্টেইনার ও একটি তেল খালাসের জেটি রয়েছে। এখানে একসঙ্গে চারটি জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এর ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজের চাপ কমে যাবে। পণ্য খালাসে সময় কমে আসবে।