
মাসুদ নাসির
পাহাড়ি দুর্গম এলাকা বান্দরবানে যার জন্ম ডাক্তার সোয়েইঙ্গি। ছোট কার থেকে যার স্বপ্ন ছিল মানব সেবা করা। যে স্বপ্ন দেখতেন কঠোর অধ্যাবসায় আর ইচ্ছে শক্তি দিয়ে মেধা মনন দিয়ে তিনি একজন ডাক্তার হয়েছেন। ডাক্তার মানে তার অভিধানে মানব সেবা করা। পুথিবীতে মানব সেবাই হচ্ছে সকল ধর্মের মর্মবাণী। মহান সৃষ্টিকর্তার পর অসুস্থ অবস্থায় আমরা যাঁর উপর ভরসা করি তিনিই একজন ডাক্তার। সৃষ্টিকর্তার কৃপা ও একজন ডাক্তারের উছিলায় রোগী সুস্থতা ফিরে পেতে পারে।
কিন্তু কিছু কিছু ভুল মানুষের কারণে মাঝে মাঝে যদিও ডাক্তারদের আমরা ভুল আখ্যা দিয়ে থাকি কিন্তু বাস্তবিক অর্থে একজন ডাক্তার হলেন দেব তুল্য। কেননা পৃথিবীতে মানবসেবা করার সর্বোৎকৃষ্ট পেশা হলো ডাক্তারি পেশা। তথাপি একজন ডাক্তার তৈরি হওয়াও কোন মামুলি ব্যাপার নয়। বহু ত্যাগ, বহু শ্রম অর্থ এবং মেধার সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর একজন ডাক্তার তৈরি হয়।
বলছি তেমনই একজন মানবিক ও দায়ীত্বশীল ডাক্তার পাব্যর্ত্য এলাকার শতবছরের অধিক সময় ধরে স্বাস্থ্য সেবার আলোকিত প্রতিষ্ঠান পাহাড় সমতলের জনগোষ্ঠির প্রিয় প্রতিষ্ঠান চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তার সোয়েইঙ্গিও কথা। উপজাতীয় কিংবা তিনি একজন খ্রীষ্টান ধর্ম অবলম্বী হলেও জাতি ধর্মে বিবেচনা না করে তার মতে আগে মানুষ। তার পর অন্য কিছু।
মহান সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি মানুষকে প্রায় সমান গুণাবলী দিয়ে সৃষ্টি করলেও সবাই সবকিছুর জন্য উপযুক্ত নয়। যে মানুষ যে কাজের উপযুক্ত সৃষ্টিকর্তা সে কাজেই তাঁকে নিয়োজিত করেন এবং সেভাবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেন।
ডাঃ সোয়েইঙ্গি আপনি সত্যি মানব সেবা করার উপযুক্ত একজন মানুষ এবং আপনি যোগ্য বলেই সৃষ্টিকর্তা মহান এই দায়িত্বটিতে আপনাকে নিয়োজিত করেছেন। হাসপাতারে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পাহাড় আর সমতলের সাধারণ মানুষ কিংবা সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে আপনার সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি তা অভিভূত হওয়ার মতো। চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার অমায়িক, নম্র তথা মুগ্ধ হওয়ার মতো আচরণে রোগীরা অনেক বেশি সন্তুষ্ট। এতো অল্প সময়ে আপনি মানুষের মনে এভাবে জায়গা করে নিয়েছেন নিজ যোগ্যতা, মানবিকতায় তা সত্যি দৃষ্টান্তমূলক। একটি ঘটনা অনেকে জানেনা হাসপাতালে একজন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছে রাত ১২টার দিকে। সেদিন হাসপাতালের রাতের জরুরী ডাক্তর হিসেবে দায়িত্ব পড়ে ডাঃ সোয়েইঙ্গি। রোগীকে হাসপাতালের অপারেশন রেুমে নিয়ে যাওয়া হয়। গভীর রাত অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর রক্তের প্রয়োজন পড়ে। এত রাতে রোগীর সঙ্গীদের বলে রক্তের ব্যবস্থা করার জন্য। তারা বলেন এত রাতে কোথায় রক্ত পাবো। এদিকে অপারেশন শুরু করা প্রয়োজন। রোগী বাঁচাতে অপারেশন রুমে ডাঃ সোয়েইঙ্গি নিজেইে রক্ত দিয়ে অপারেশন করে রোগীর জীবন রক্ষা করেছে। এটা বিরল বর্তমান সমাজ বা রাষ্ট্রে। এটাই হচ্ছে মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য।
তদুপরি আপনাকে নিয়ে আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলেও শেষ করতে পারবো না। যেকোনো মুহূর্তে রাত-বিরেতে সময়ে অসময়ে যেকোনো স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা নিয়ে আপনার কাছে যে কেউ পরামর্শ চাইলে তড়িৎ গতিতে আপনি সাড়া দেন। ডাক্তার মানে অনেকে অহংকার করে সাধারণ মানুষের মনের ব্যাথা কি তা বুঝতে চাননা। তার উল্টো আপনি আপনার কাজের সহ মহিমায় এক জন মানবিক এবং দায়িতাবশীল মানব সেবার ব্রত নিয়ে আপনি এতদ এলাকায় সাধারণ অসহায মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন। কথাগুলো এমন ভাবে বলছি কারণ আমি বুঝি আপনার দায়বদ্ধতা, আপনার ব্যস্ততা। এতকিছুর পরও কিঞ্চিৎ পরিমাণ বিরক্ত না হয়ে হাসিমুখে সবসময় মন থেকে সহযোগিতা করেছেন যার জন্য আমি সত্যিই আপনার মহৎ কাজে এল্কাার মানুষ আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।
কিছু মানুষ আছে উচ্চ বিলাসী। বড় পেশা ডাক্তারী বিলাসবহুর জীবন গড়তে শহরে বসবাস করে থাকে। আপনি নিজেই গ্রামের থেকে অসহায় মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি বিলিযে দিচ্ছেন। সত্যিই বর্তমান সমাজ বা দেশে খুবই বিরল। আমি জানি আপনার জীবন চলার পথে স্বপ্রে সারথি হয়ে আছেন শুধুই হাসপাতাল আর রোগীদের সুস্থ করে তোলা। আপনি চাইলে দেশের নামী ধামী হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে যোগদান করা। যেহেতু আপনার জন্ম গ্রামে । গ্রামের মানুষের দুর চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় নামী দামী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়া খুবই কঠিন। সে হিসেবে গরীব দিন মজুর রিক্সা ভ্যান সিএনজি চালক শ্রমজীবি মানুষের কথা আপনার মনে ধারণ করায় আপনি রয়ে গেলেন গ্রামে। আপনার দুই ছেলে পড়ে ঢাকাতে। আপনার স্বামী চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার প্রবীর খিয়াং। আপসার শ্বশুর প্রয়াত বাদল খিয়াং তিনি এ হাসপাতালের সফল পরিশ্রমি হিসাব বিভাগের প্রধান হিসেবে এখান থেকে অবসর নিয়েছেন। আপনার ভাসুর সুবির খিয়াং ঢাকার নামকরা তাও ডাক্তার হিসেবে মানব সেবায় নিয়োজিত রযেছেন। আপনার শাশুড়ি রত্নাগর্ভা একজন জয়িতার পুরস্কার পেয়েছেন। আমার দেখায় আপনি কখনও হাসপাতালে ফাকি দিয়ে নিজের আরাম আয়াসে জীবন কাটিয়েছেন সেরকম নজীর নেই। সেজন্য হাসপাতালে কিংবা এলাকায় জনািপ্রয় গাইনি ডাক্তার হিসেবে আপনার তুলনা আপনি নিজেই। এলাকার জনগোষ্ঠি আপনার উপর অধিক আস্থা রেখেই হাসপাতালে ডেলিভারী করাতে আসে। আপনার জনপ্রিয়তা নিয়ে অনেকেই ঈর্ষান্নিত। তাতে কিছুই যায় আসেনা। আপনি মহৎ বিনয়ী এবং দায়িত্বে সচেষ্ট থেকেই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর সংগ্রামে অবিচল থাকবেন। এ সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে চিকিৎসা সেবায় আরো শত শত আপনার মতো ডাক্তারের জন্ম হউক। জয়তু ডাক্তার সোয়েইঙ্গি।
লেখক : সাাংবাদিক










