নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, ইপসা (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন) এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামে ‘ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নস অব দ্য এনভায়রনমেন্ট ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে পরিবেশ রক্ষা ও দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী ২০০ তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ক্রমেই বাড়ছে, বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো ব্যস্ত নগরীতে যেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্য এবং নগরজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ইপসা ২০২২ সাল থেকে বহুপক্ষীয় (মাল্টি-স্টেকহোল্ডার), ভ্যালু-চেইনভিত্তিক প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল বাস্তবায়ন করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩০ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও রিসাইকেল করা হয়েছে, যা পরিচ্ছন্ন আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা, বর্জ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে ‘ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নস অব দ্য এনভায়রনমেন্ট ২০২৫’ প্রোগ্রামটি আয়োজন করা হয়েছে। ৪১০ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী ও আবেদনকারীর মধ্য থেকে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচিত করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের ৮২ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী, ২০ জন সাংবাদিক এবং বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্লাবের ৯৮ জনশিক্ষার্থী। তাদের অংশগ্রহণ শহরজুড়ে তরুণদের টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার ইতিবাচক প্রতিফলন।
তরুণ নেতৃত্ব, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং টেকসই চর্চা বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন থিমেটিক সেশন আয়োজন করা হয়। এসব সেশন তরুণদের ব্যবহারিক জ্ঞান, নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু কার্যক্রমে যুক্ত তরুণদের শেখা, নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান।
বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ ধরনের উদ্যোগে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন ধারণা আনে এবং সমাজে সকলের সম্পৃক্ততা বাড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, পরিবেশ সচেতন সমাজ গঠনে তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উৎসাহ ও নিষ্ঠা আমাদের আরও টেকসই ভবিষ্যতের আশা জোগায়।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার বলেন, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের আগ্রহ ও উদ্ভাবনী চিন্তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ইউনিলিভার বাংলাদেশ তরুণদের নেতৃত্বকে সমর্থন প্রদানের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান বলেন, পরিবেশ সমস্যার সমাধানে তরুণদের সম্ভাবনা সবসময় প্রবল। এই উদ্যোগ তাদের ধারণাগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম ও দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।
‘ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নস অব দ্য এনভায়রনমেন্ট ২০২৫’ ইউনিলিভার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং তরুণ নেতৃত্বকে যুক্ত করার ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। ২০২২ সাল থেকে ইউনিলিভার প্লাস্টিক সার্কুলারিটি নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক মডেল তৈরি, বর্জ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং ভ্যালু চেইনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। আগামী প্রজন্মকে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রেরণা দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই চট্টগ্রাম গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রায় সহায়তা করাই এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য।











