পটিয়ায় ১ ডজনের বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে

162

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন প্রার্থীরা। আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীরা এখন থেকে মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করেছেন। নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিশ্চিত না হলেও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা ঘরে বসে নেই। সব মিলিয়ে পটিয়ায় উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে।
পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান নাছির আহমদ এবং জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ছৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, উপজেলা আ.লীগের প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ার চৌধুরী মুরাদ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পটিয়া উপজেলার সভাপতি আবু ছালেহ মোহাম্মদ শাহরিয়ার, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান, পটিয়া উপজেলা যুবলীগ সম্পাদক এম এ রহিম ও আশীষ তালুকদারের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সর্বত্র ছড়িয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তরুণ নেতা গোলাম সরোয়ার চৌধুরী মুরাদের নাম বেশি ছড়িয়েছে।
এছাড়া নারীদের জন্য সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলি, সাজেদা বেগম, জীবন আরা বেগম রুবি, শাহানা আক্তার টিয়া, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পদিকা সুমি দে সাথীর নাম জানা গেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের নিয়ে মাঠে প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেতে অনেকে ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন। দলীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে পটিয়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু। এতে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইসলামী ফ্রন্টের পটিয়া উপজেলার সভাপতি এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, বঙ্গবন্ধু ফজিলাতুন্নেছা ফাউন্ডেশনের পটিয়ার সভাপতির পদ ত্যাগ করে বিএনপি থেকে মহিলা ভাইস চেয়ারমান নির্বাচিত হন আফরোজা বেগম জলি। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম। কিন্তু তিনি বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়ার কাছে হেরে যান। ওই বছর ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিন হন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. তিমির বরণ চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মাজেদা বেগম শিরু। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, পটিয়া উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী টিপু আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, দল নির্বাচনে অংশ না নিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনিও নির্বাচনে অংশ নেবেন না। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরকার সুষ্ঠু ও সুন্দর উপজেলা নির্বাচন উপহার দেবেন। এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণ তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারবেন। দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. তিমির বরণ চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী বলেন, দল থেকে মনোনয়ন না পেলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছে নেই। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ লোকজন প্রার্থী হওয়ার জন্য এখন থেকে বিরক্ত করছেন। এরপরও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না। পটিয়া উপজেলা আ.লীগের প্রচার সম্পাদক গোলাম মাওলানা চৌধুরী মুরাদ বলেন, মূলত সাধারণ মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি এবার ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান বলেন, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা চান। দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য আবু ছালেহ মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, এবার তিনি অবশ্যই নির্বাচন করবেন।