পটিয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দীর্ঘ হচ্ছে প্রার্থীর তালিকা

201

পটিয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দীর্ঘ হচ্ছে প্রার্থীর তালিকা। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সব শেষ দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশের নাম যুক্ত হয়েছে। অন্য প্রার্থীদের সাথে সাথে তিনিও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগাম প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। এদিকে আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষে চেয়ারম্যান, ভাইচ চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীরা এখন থেকে মাঠ চষে বেড়াতে শুরু করেছেন। পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইচ চেযারম্যান পদে ৬ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা ভাইচ চেয়ারম্যান পদে ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান নাছির আহমদ এবং জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীর নাম রয়েছে। এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ছৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ার চৌধুরী মুরাদ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সদস্য ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পটিয়া উপজেলার সভাপতি আবু ছালেহ মোহাম্মদ শাহরিয়ার, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান, পটিয়া উপজেলা যুবলীগ সম্পাদক এম এ রহিম ও আশীষ তালুকদারের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সর্বত্র ছড়িয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে প্রচার- প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া নারীদের জন্য সংরক্ষিত মহিলা ভাইচ চেয়ারম্যান পদে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম শিরু, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা বেগম জলি, সাজেদা বেগম, জীবন আরা বেগম রুবি, শাহানা আক্তার টিয়া, যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পদিকা সুমি দে সাথীর নাম জানা গেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি অন্যদের চেয়ে দেরিতে প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ। তিনি জানান, ছাত্র জীবনের শুরুতেই চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি পদে থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ভুমিকা রাখেন এবং গণতন্ত্রকামী সকল ছাত্র সমাজকে সুসংগঠিত করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থেকে সাংগঠনিক দক্ষতা দেখাতে সমর্থ হন। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। প্রদীপ দাশ বর্তমানে ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি, চট্টগ্রাম রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, পটিয়া লায়ন্স ক্লাবের পরিচালকসহ অসংখ্য সমাজ উন্নয়ন মূলক সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল হিসেবে বিভিন্ন সময়ে নেতাদের মধ্যে নানা ক্ষেত্রে বিভক্তি হলেও আমি কখনো কোন ধরনের বিভক্তিতে যাইনি। শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। পটিয়ার তিন বার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর উন্নয়নের হাতকে আরো গতিশীল করতে তিনি এবার প্রার্থী হচ্ছেন। তিনি সামশুল হক চৌধুরীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য সহায়ক কর্মী হিসেবে কাজ করতে নৌকা প্রতীক পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেতে অনেকে ইতোমধ্যে তারা লবিং শুরু করেছেন। নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিশ্চিত না হলেও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা ঘরে বসে নেই। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে পটিয়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী টিপু। এতে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ইসলামী ফ্রন্টের পটিয়া উপজেলার সভাপতি এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, বঙ্গবন্ধু ফজিলাতুন্নেছা ফাউন্ডেশনের পটিয়ার সভাপতির পদ ত্যাগ করে বিএনপি থেকে মহিলা ভাইস চেয়ারমান নির্বাচিত হন আফরোজা বেগম জলি। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম। কিন্তু তিনি বিএনপি নেতা ইদ্রিস মিয়ার কাছে হেরে যান। এ বছর ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিন হন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. তিমির বরণ চৌধুরী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মাজেদা বেগম শিরু।