কাউছার আলম, পটিয়া
পটিয়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ছড়াচ্ছে আদার সুবাস। এবার কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই ও খরনায় চলতি মৌসুমে আদার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুক‚ল আবহাওয়া, পাহাড়ি উঁচু জমি, চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ বছর আদা চাষীরা আশানুরূপ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।
পটিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আদার চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল হেক্টরপ্রতি ৪০০ মেট্রিক টন। তবে অনুকূল পরিবেশ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাহাড়ি অঞ্চলের আদা চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মার্চ-এপ্রিল মাসে বীজ রোপণ করেন। উঁচু পাহাড়ি জমি ও গাছের ছায়াযুক্ত এলাকায় চাষ করায় ফলন ভালো হয়েছে।
আদা চাষী আবদুল জব্বার বলেন, প্রতি কানি জমিতে বীজ, সার ও শ্রমিক মিলে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। এ বছর আবহাওয়া ভালো ছিল, তাই লাভ আরও বেশি হবে বলে আশা করছি।
প্রতি কানির খরচ আদা বীজ ও শ্রমিকসহ ৪০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় লাভের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে এবার। পাহাড়ি জমি আদার জন্য আদর্শ বলছেন হাইদগাঁওয়ের চাষী মফিজ উদ্দিন।
আদা চাষীরা আরও জানান, মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ায় চাষাবাদ সহজ হয়েছে এবং রোগ-বালাইও ছিল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে।
পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ কল্পনা রহমান বলেন, পটিয়া সবজি উৎপাদনের স্বর্গভূমি। পাহাড়ি ইউনিয়নগুলোতে আদা চাষিরা সফলতার মুখ দেখছেন। শুধু পাহাড় নয়, পতিত সমতল জমিতে পুষ্টি প্রকল্পের আওতায় বস্তায় আদা চাষ চলছে। সমতল কিংবা ছায়াযুক্ত স্থানে চাষ করে অনেক কৃষকই ভালো ফল পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আদা একটি উচ্চমূল্যের মসলা সারা বছরই এর চাহিদা থাকে। শুধু পাহাড়ি এলাকা নয়, যেখানে অন্য কোন ফসল হচ্ছে না, সেখানেও আদা চাষ সম্ভব। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিতে প্রস্তুত। প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছে। তারা সব ধরনের পরামর্শ দিতে প্রস্তুত।
অপরদিকে, পাহাড়ি ও অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে আদা চাষে সফলতা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আদার ভালো ফলন ও বাজারমূল্য চাষীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। চলতি নভেম্বর মাস থেকে ফসল তোলা শুরু হয়েছে এবং পুরো মৌসুমেই কৃষকদের লাভবান হওয়ার আশা করছে কৃষি অধিদপ্তর।
এদিকে, এই সাফল্যে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। পাহাড়ি ঢাল থেকে সমতলের পতিত জমিতে আদা চাষ এখন পটিয়ার নতুন সম্ভাবনা। কৃষি বিভাগের সহায়তায় আগামীতে আদা চাষ আরও বিস্তৃত হবে আশা চাষীদের।











