নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপি নেতা মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরী শুধু সৎ, যোগ্য ও গণমানুষের নেতা ছিলেন না, তিনি একজন সংগ্রামী ব্যক্তি ছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে, তার প্রতিটি মুহূর্তে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী তার পাশে ছিলেন। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাঁশখালী জলদি পাইলট হাই স্কুল মাঠে বাঁশখালী উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
স্মরণসভার আগে নেতৃবৃন্দ বাঁশখালীর গুণাগরিতে মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মোনাজাত করেন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সন্তান জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, বাঁশখালী আসনের বিএনপির প্রার্থী ও মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সন্তান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পটিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম।
আমীর খসরু বলেন, যখন খুবই কঠিন সময়, মানুষ ভয়ে জীবন যাপন করছিল, তখনও জাফরুল ইসলাম চৌধুরী কর্ণফুলী সেতুর উভয়পাড়ে, বাঁশখালীসহ সব কর্মসূচিতে তার লোকজন নিয়ে সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন। মৃত্যুর শেষদিন পর্যন্ত, অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বাঁশখালীর জনগণ যে নেতা পেয়েছিলেন, তিনি আজ নেই। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তার কথা মনে রেখে আগামী বাঁশখালী কোন দিকে যাবে, আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধানের শীষের প্রার্থীর মাধ্যমে জাফরুলের নেতৃত্ব ও রাজনীতির ধারাবাহিকতা বহন করবে তার সন্তান মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পা।
খসরু নিশ্চিত করেন, মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পার নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনীতির পথ অনুসরণ করে বাঁশখালী পরিচালিত হবে। নির্বাচন ব্যাহত করতে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিগত দিনের পরাজিত শক্তি কখনোই নির্বাচনে জিততে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে এবং দেশের মানুষের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণের ১৭ বছরের ত্যাগকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।
আমীর খসরু বলেন, আগামী ফেব্রæয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আগামীর দেশের যেসব সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারেননি, তা এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি তার ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কারের যে ওয়াদা করেছে, তা পরিপূর্ণভাবে পালন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাই বাঁশখালীতে মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পাকে বিজয়ী করতে হবে। আর বিজয়ী করতে হলে বসে থাকলে চলবে না, সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে প্রতিদিন উঠান বৈঠক করতে হবে, প্রতিদিন প্রতিটি ঘরে যেতে হবে এবং বিএনপির চিন্তা-চেতনা জনগণের সামনে তুলে ধরে আগামীর নির্বাচনে একটি বিশাল জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
আমীর খসরু আরও বলেন, জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর আত্মা শান্তি পাবে আবারও বাঁশখালী থেকে মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পাকে ধানের শীষের পক্ষে বিজয়ী করতে পারলে। আগামীর বাংলাদেশে যে আকাঙ্খা-প্রত্যাশা, বাঁশখালীর উন্নয়নসহ সব কিছু পূরণ করতে হলে পাপ্পাকে বিজয়ী করতেই হবে।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বাঁশখালীর চার বারের সংসদ সদস্য ছিলেন। আজকের স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে বাঁশখালীতে ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে বাঁশখালী-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপি ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রতি বাঁশখালীর মানুষের ভালোবাসা আবারও প্রমাণ করবে।
ইদ্রিস মিয়া বলেন, বহু আন্দোলন সংগ্রামে, দলীয় কর্মসূচিতে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে থেকেছি। দলের প্রতি তার আত্মত্যাগ চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন পীড়ন ও নির্যাতনের মুখেও কখনো পিচপা হননি। তিনি এমন একজন নেতা ছিলেন যার সঙ্গে সকলের সুসম্পর্ক ছিল। তিনি সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।
মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, আমার পিতা জাফরুল ইসলাম চৌধুরী শুধু একজন নেতা নন, তিনি ছিলেন দক্ষ সংগঠক। তিনি ছিলেন বাঁশখালীর মাটি ও মানুষের নেতা। তার নেতৃত্বে দক্ষিণ জেলা বিএনপি সুসংগঠিত হয়েছিল। শত শত নেতাকর্মী গড়ে উঠেছে তার হাত ধরে। অসুস্থতা নিয়েও তিনি রাজপথে থেকে দলের কর্মসূচি পালন করেছেন। আমি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সন্তান হিসেবে সবসময় বাঁশখালীবাসীর পাশে থাকবো। আপনারা সবাই আমার বাবার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করবেন।
বিএনপি নেতা এডভোকেট শওকত ওসমান ও এডভোকেট নাছির উদ্দীনের পরিচালনায় এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর কন্যা ফারহানা ইয়াসমিন আঁখি প্রমুখ।










