নির্বাচন বানচাল হলে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়বে

3

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান গতকাল শনিবার বিকেলে পরিণত হয় ব্যানার-শ্লোগানে মুখরিত এক মহাসমাবেশে। বৃহত্তর সুন্নীজোট চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত এই জনসভায় আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উঠে আসে তীব্র উদ্বেগ ও সমালোচনা।
এতে বক্তার বলেন, এই মুহূর্তে বড় প্রয়োজন জনস্বার্থে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। কিন্তু জাতীয় জনস্বার্থ ইস্যুতে ঐক্যের চেয়ে অনৈক্য-বিভাজনই আজ প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে দেশবাসীর মাঝে যে শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বোচ্চ ছাড় দিতে হবে।
সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিন বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনো অধরা। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন-সবই বেড়েছে। সরকারের কিছু উপদেষ্টার পক্ষপাতমূলক আচরণ অবাধ নির্বাচনের পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই সরকার জনগণের প্রত্যাশার আলোকে পদক্ষেপ নেবে, অন্য কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন নয়।সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় সংলাপ এবং জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের মতামত না নেওয়া সরকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রমাণ। কোনো দলের প্রতি সরকার পক্ষপাত দেখালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। যদি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা অস্থিরতার কারণে ফেব্রæয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল হয়, তবে দেশ আরও ভয়াবহ সংকটে পড়বে এবং জনগণকে দিতে হবে চরম মাশুল। সভায় ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদি বলেন, দেশে লাখো তরুণ বেকার। দিন দিন বাড়ছে দারিদ্র্য। সোয়া এক বছরে শত শত মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়েছে, অথচ সরকারের সেদিকে দৃষ্টি নেই। এখন কবরের লাশও নিরাপদ নয়, তুলে পুড়িয়ে ফেলার মতো নব্য জাহিলিয়াত দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি’র কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান পীরে তরিকত মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী বলেন, মানুষ আজ ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। মবসন্ত্রাসে পিটিয়ে হত্যা, শিক্ষক হেনস্তা, মাজারে হামলা, কবরস্থানে অগ্নিসংযোগ এগুলো সভ্যসমাজে অকল্পনীয়। সরকার ও সেনাবাহিনী মব ভায়োলেন্স বরদাশত না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে উদাসীনতা স্পষ্ট।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নাল আবেদীন জুবাইর বলেন, এই সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু ১৫ মাসে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। দেশে গ্রেপ্তার বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য, জামিন বাণিজ্য, ঘুষ-দুর্নীতির মচ্ছব চলছে। দায়িত্বশীল ভ‚মিকা রেখে বৃহত্তর সুন্নীজোটের এই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিতে পারে দেশবিরোধী শক্তি। ফেব্রæয়ারির নির্বাচন বানচাল হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
বিএসপি’র কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী মহসিন চৌধুরী বলেন, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না, সরকারের প্রতি জনআস্থা কমছে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এইচ এম মুজিবুল হক শাকুর। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত মজলিশের শুরা সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা অছিউর রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা সোলায়মান আনসারী, আল্লামা হাফেজ আশরাফুজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা, এডভোকেট আবু নাছের তালুকদার, মাওলানা আবু সুফিয়ান আবেদী আলকাদেরী, অধ্যক্ষ মাওলানা আহমদ হোসাইন আলকাদেরী, এম সোলায়মান ফরিদ প্রমুখ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএসপি চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি এস এম শাহাবুদ্দিন, সঞ্চালনায় ছিলেন জনসভা প্রস্তুতি কমিটির আহব্বায়ক মাওলানা আবদুন্নবী আলকাদেরী, সদস্য সচিব মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভ‚ইয়া এবং ইসলামিক ফ্রন্টের নগর সহসভাপতি মঈন উদ্দিন চৌধুরী হালিম।