নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে

1

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ পতিত স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী গুম, খুন ও আয়নাঘর করিগরদের বিচার কার্যক্রম যখন গতি পাচ্ছিল ঠিক সেই সময় সারাদেশে ইপিজেড, সিলেট ও ঢাকা বিমানবন্দরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিসংযোগ, চোরাগুপ্তা হামলাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা স্থগিত থাকলেও তারা নামে-বেনামে সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের শরিক জাপাসহ ১৪ দলের অপতৎপরতাও অব্যাহত। নানা পথে গোপনে ও প্রকাশ্যে হুমকি সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্রে তারা লিপ্ত রয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম মহানগরী কার্যালয়ে মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারিয়েটদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টির নেতারা বিভিন্ন টকশোতে অংশ নিয়ে যেভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে, তা জনমনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। সাইনবোর্ড বদলালেও স্বৈরাচারের দোসরদের চরিত্র বদলায়নি। একটি বড় দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা এই চক্র ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, খুন-খারাবির মতো অপরাধ চালিয়ে গ্যাং কালচার প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব কর্মকান্ড চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরমভাবে অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।
নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোড, চালিতাতলি, জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকা ও আশপাশের অঞ্চলে সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড, অস্ত্রবহুল মহড়া ও গুলির শব্দে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একইভাবে খুন-খারাবি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন পর্যন্ত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুক‚ল পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ষড়যন্ত্রের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পতিত স্বৈরাচারের এক সাবেক মন্ত্রীর বাসায় অভিযান পরিচালনাসহ সিএমপির বিভিন্নমুখী উদ্যোগে চট্টগ্রামবাসী কিছুটা আশাবাদী হয়েছে। তবে নাগরিকদের মধ্যে এখনও পূর্ণ স্বস্তি ফিরে আসেনি। তিনি অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিচারের আওতায় আনা এবং অস্ত্র উদ্ধারে আরও ব্যাপক অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দক্ষিণ মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস। আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম ফজলুল হক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী, প্রফেসর মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসেন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, মুহাম্মদ ইসমাঈলসহ ছাত্রনেতা রাজিবুল ইসলাম, বাহা উদ্দিন, শহিদুল মুরসালিন, তানভীর মোস্তফা, খালেদ সাইফুল্লাহ, গোলাম রব্বানী, ফাহিম উদ্দিন, আব্দুর রহিম আল মামুন, শাহনেওয়াজ, জাহিদুল আলম জয়, সাব্বির হোসাইন সাকিব, আতিকুর রহমান সাঈদ, মিজবাহ উদ্দিন, ফানাফিল্লাহ হক জিহাদী, গোলাম মোস্তাফা আমজাদ হোসেন, মুহাম্মদ ইয়াছিন, আহমেদ রিদোয়ান ফয়সাল প্রমুখ।