আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ সংশয় দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের আন্তর্জাতিক অপরাদ ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ রায় ঘোষণার পর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আবারো খারাপ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রায়ের পর ৩২ নং এ জুলাই আন্দোলনকারী ছাত্রজনতার বুলডোজার নিয়ে হামলার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকায় একধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। যার রেশ এখনও চলছে। এর আগে ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামীলীগ ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিলে আরেকবার পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। লকডাউনের দুইদিন আগ থেকে রাজধানীসহ পুরো দেশজুড়ে আগুন ও ককটেল সন্ত্রাসে ভীতসন্ত্রস্থ হয়ে ওঠে দেশের সাধারণ মানুষ। এসব বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখে রাজনৈতিক বোদ্ধা থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকের মধ্যে ধারণা জন্মে আদৌ সরকার ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে। এধরনের একটি সংশয়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) আদেশ ঘোষণা করার পর নির্বাচন সম্পর্কে যদি কারো কোনো বিন্দুমাত্র সংশয়ও থেকে থাকে তাহলে আশা করি, সেটিও দূর হয়েছে। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনকে বলেছে, আসন্ন পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সমাপ্ত করতে। সেটি করতে গেলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, সরকার প্রদত্ত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার যাবতীয় প্রস্তুতি সে শুরু করেছে এবং সময় মতোই সেগুলি সম্পন্ন হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থান নির্বাচন বানচালের কোন সুযোগ কেউ নিতে পারবে বলে মনে হয় না। আমরা এটিও বিশ্বাস করতে চাই, দেশের মধ্যে যেসব শক্তি বা মহল রয়েছে তারা কেউই নির্বাচন বানচালের জন্য কোনো ষড়যন্ত্র করবে না। যারা দেশপ্রেমিক তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে না। তাই বলে কেউ যে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করবে না সেটি হলফ করে বলা যাবে না। জামায়াতে ইসলামসহ তাদের জোট এখন গণভোট নিয়ে দ্বিমত করছে তবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের আর কোন প্রশ্ন আছে বলে আমাদের মনে হয়না। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত প্রায় সকল দলের সাথে নির্বাচনী সংলাপ শুরু করেছ, তাতে সবকটি দল অংশগ্রহণ করেছে। তারা নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করতেও শুনেছি গণমাধ্যম সূত্রে ।
বিএনপি ২৩৭ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দিয়েছে, বর্তমানে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী শ’ খানেকেরও বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। তারাও ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। তারপরেও উভয় দল চূড়ান্ত মনোনয়ন অর্থাৎ ৩০০ প্রার্থীকে ফাইনালি নমিনেট করেনি। এর কারণ নিম্নরূপ:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অতীতেও বলেছেন এবং বর্তমানেও বলছেন যে, বিএনপি এবার একা একা নির্বাচন করবে না। বিগত ১৫ বছর বড়-ছোট মিলে যেসব দল বিএনপির সাথে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ নির্মূলের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে তাদেরকে নিয়েই বিএনপি ইলেকশন করবে। শুধু ইলেকশন করাই নয়, ইলেকশনে শরীকদের নিয়ে বিএনপি যদি মেজরিটি পায় তাহলে তাদেরকে নিয়েই বিএনপি সরকারও গঠন করবে। অনেকে বলছেন যদি তাই হয়, তাহলে সেটি হবে অনেকটা জাতীয় সরকারের মতো। অবশ্য তাই বলে দেশে যেকোনো বিরোধী দল থাকবে না তা নয়। আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচন করতে পারবে না, এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর দেশে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছে। জামায়াতে ইসলামী এবং তার নির্বাচনী সঙ্গীরা ছাড়া অবশিষ্ট সকলকে নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করবে। অবশ্য বামপন্থীদের কথা এই মুহূর্তে সঠিক করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
যাই হোক, দিনশেষে বিএনপি ও জামায়াতের নিজ নিজ দলীয় ও জোটসঙ্গীদের নমিনেশন চূড়ান্ত হবে। শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ের পর শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ মরিয়া হয়ে উঠবে ইলেকশন বানচালের। এ ব্যাপারে তাকে অল আউট সহযোগিতা করবে ভারত সরকার।
শেখ হাসিনার রায়ের পর দলটির সব আশা, সব ভরসা নিভে গেলো। তবে তারা যে একেবারে হাতপা কুড়িয়ে বসে থাকবে তা নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা মনে করি, সরকার যেভাবেই হোক আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাতে তারা অটুট থাকলে কোন শক্তিই নির্বাচন বানচালের সুযোগ পাবে না।











