মুশফিক হোসাইন
রাজনীতি নিয়ে লেখালেখি আমার পছন্দের নয়। প্রকৃতি ও পরিবেশ আমার প্রিয় বিষয়। নভেম্বরের তের তারিখ প্রধান উপদেষ্টা পুনঃ ঘোষণা দেন যে, ফেব্রুয়ারির শুরুতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই সুবাদে মাথায় খেলে গেল এবারের নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কী ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ের ফেবু তথা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক অপব্যবহার লক্ষণীয়। সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে ব্যাপক প্রচার চলছে। আবার তের তারিখের লক ডাউনকে ঘিরে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠি দুর্বৃত্তপনায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। দেশে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই। তারপরও নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে কেউ কেউ। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক এটাই কামনা করি। মনে রাখতে হবে বহির্দেশীয় আগ্রাসন যেন আবার চেপে না বসে।
যা বলতে চাচ্ছিলাম তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমতার (এআই) অপপ্রয়োগ নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যাপক উন্নয়নে সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বেশ গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হিসাবে প্রতীয়মান। শুধু উন্নতদেশ নয় অনুন্নত ও উন্নয়শীল দেশের জনগণ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করছে। এআই ব্যবহার ও চর্চা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশেও এআই’র ব্যবহার সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। অতএব হরদমভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবারের নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে- এ কথা হলফ করে বলা চলে। আমাদের নীতি নৈতিকতার মান থেকে একথা স্পষ্ট যে, এবারের নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মানে নতুন নিয়ে আলাপ করা যাক। (১) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নাগরিকদের যেমন বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পেতে সহায়ক হবে। তেমনিভাবে এআই’র সাহায্য নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ভোটার এবং জনমনের ধ্যানধারণা সম্পর্কে বুঝতে সক্ষম হবেন। (২) আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘অস্ত্র’ হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এআই’র সাহায্যে খুব সহজে এবং বড় পরিসরে ভুল, অসত্য তথ্য, সংবাদ ছড়ানো কোন ব্যাপারই না। এতে করে জনমতকে প্রভাবিত/ বিভ্রান্ত করা সহজতর হবে।
ফলে জনমতকে অন্যদিকে ধাবিত করতে সহায়ক হতে পারে। ফলে জনগণের প্রত্যাশা বিভ্রান্ত পথে বাঁক নেয়া অসম্ভব নয়। (৩) জেনারেটিভ এ আই দিয়ে ‘ডিপ ফেক’ অর্থাৎ অবাস্তব সম্মত ছবি, ভিডিও, কণ্ঠস্বর তৈরি করা সম্ভব। যা আসল কনটেন্ট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা প্রায়ই অসম্ভব।
এবারের নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে ‘সেন্টিমেন্টাল অ্যানালাইসিস (জনমত বিশ্লেষণ) এর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা কিম্বা মনমেজাজ বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা বেশি। সহজ ভাষায় বলা চলে এ আই দিয়ে নির্বাচনী মাঠকে প্রভাবিত করা সহজতর হবে বলে ধারণা করা যায়। তবে এর সাঠিক ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে উন্নত সংহত করা যেতে পারে। কথা হলো যারা ব্যবহার করবেন তারা যেন সততার সাথে ব্যবহার করেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্বাচনের স্বচ্চতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ, শালীনতা এবং নৈতিকতার জন্য হুমকী যেন না হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমগ্র বিশ্বে বিশেষ করে উন্নত দেশসমূহে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পাল্টে যাচ্ছে প্রচার প্রকাশনার সকল কান্ড। অথচ এ আই উদ্ভাবনেরর পর অনেকেই ধারণা করেছিল যে, এআই শুধু মাত্র ছোটখাট প্রশাসনিক কাজ কারবার গুছিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তবে এআই এমন আধুনিক নির্বাচনের প্রচার এবং জনমতকে প্রভাবিত করার একটি সফল কৌশল হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হালজমানার একটি নির্বাচনী প্রচারণার একটি অন্যতম হাতিয়ারও বটে।
মনে রাখতে হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির একটি পদ্ধতি শুধু নয়- এর বহুমাত্রিক ব্যবহার ও এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ভবিষ্যতবাণী মূলক বিশ্লেষণ, প্রাকৃতিক ভাষার প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি। যা হালের মিডিয়া কৌশলের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
আশা করবো, রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা জনস্বার্থে কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। নিজ স্বার্থে দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেবেন না। যারা দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন নি ইতিহাস তাদের ক্ষমা করে নি। তার ভুরিভুরি নজীর বিশ্বে তো আছে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও আছে। মনে রাখবেন ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা।
লেখক : কবি, নিসর্গী ও ব্যাংক নির্বাহী (অব.)










