জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জামানত ও নির্বাচনী ব্যয়সীমা কমানো এবং প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ এসেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে। নির্বাচনী কর্মকর্তা বাছাইয়ে সতর্ক থাকা, ৩০০ আসনেই ‘না’ ভোটের বিধান রাখা কিংবা মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে কমিশনের সমন্বয়সাধনের মতো পরামর্শও দিয়েছেন কেউ কেউ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ছয়টি রাজনৈতিক দলের সংলাপে এসব সুপারিশ ও মতামত উঠে আসে। খবর বিডিনিউজের
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে এ সংলাপ হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যান্য কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। সূচনা বক্তব্যে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ভোটাররা বা রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের অন্যতম অংশীদার। ভোটারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করা আপনাদের (রাজনৈতিক দলগুলোর) দ্বারাই সম্ভব। ৫৩ বছর হলো, আমরা একটা নির্বাচনই করতে পারলাম না, এটাই আমার কাছে লজ্জার মনে হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার আগে ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগের কোনো কমিশনকে এটা সামলাতে হয় নাই। এআইয়ের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) অপব্যবহার আগে সামলাতে হয়নি। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
সংলাপের শুরুতে কথা বলেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি প্রার্থীর জামানত কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে বলেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ গরিব; আমরা তাদের কাছে যাই ভোটের জন্য। কিন্তু তারাও যে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে, সে বিবেচনা করি না। যদি তা করতাম, তাহলে জামানতের টাকা ৫০ হাজার করতাম না। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে উদ্বেগ জানান তিনি। নির্বাচনি ব্যয়সীমা নির্ধারণ করে দিলেও তা কমিশন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনারা বলবেন তফসিল ঘোষণার পর থেকে হিসাবটা করতে চাচ্ছেন। কিন্তু বিফোর ইলেকশন, শত শত কোটি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কিনা, না তা বিবেচনা করবেন। ভোট সুষ্ঠু করতে এক উপজেলায় কর্মরত শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের অন্য উপজেলায় নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন।
জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি তানিয়া রব নির্বাচনের দিন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় নিশ্চিত করতে কমিশনের কাছে নানা সুপারিশ তুলে ধরেন। জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে জনগণ নিয়ে ভাবেন, জনগণের সঙ্গে থাকেন, যারা টাকার মালিক নন, সেই মানুষগুলো নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে শতমাইল দূরে।
জামানতের টাকা ও নির্বাচনি ব্যয়সীমা বাড়ানোর সমালোচনা করে বাসদের সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, এ সিদ্ধান্ত সংসদকে কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত করবে। তিনি জামানত কমিয়ে ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনি ব্যয়সীমা ৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানান।
নির্বাচন কমিশনকে কোনো ‘অযৌক্তিক’ চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহŸান জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক বলেন, দৃঢ়চিত্ত, বলিষ্ঠ ভূমিকা নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আমরা দেখতে চাই। জামানত পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংলাপে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আগে আচরণবিধি স্পষ্টভাবে আরপিওর সঙ্গে যুক্ত করা ছিল না। এটাকে সরাসরি আচরণবিধির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আমরা পুরো আসনের ফল বাতিল করতে পারব এবং ভোট গ্রহণ স্থগিত করতে পারব।










