নিজে সুরক্ষিত থাকুন অন্যকে সুরক্ষিত রাখুন

30

 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহŸান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে করোনা থেকে নিজে সুরক্ষিত থাকুন। অপরকে সুরক্ষিত রাখুন। এই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে যেন দেশ ও জাতি মুক্তি পায়- সেজন্য সবাই দোয়া করুন।
সোমবার বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধারণকৃত ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন রাত আটটায় প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশনে স¤প্রচার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকার কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা করছে। দেশে উৎপাদন যাতে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হতে পারে, তার জন্য যথাযথ মাটি পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে সরকার অন্যান্য সহযোগিতাও করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের দেওয়া বিভিন্ন সহযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্গাচাষিরা যাতে বিনা জামানতে ঋণ পান, আমরা কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের বিনা জামানতে ঋণের ব্যাবস্থা করে দিয়েছি। সারের দাম যা বিএনপি সরকারের আমলে ৯০ টাকা ছিল, তা আজ আমরা ১২ টাকায় নামিয়ে এনেছি। গবেষণার মাধ্যমে উন্নত বীজ উৎপাদন করছি এবং সেই বীজ আমরা সরবরাহ করছি’।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেই সঙ্গে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ, যেটা জাতির পিতার লক্ষ্য ছিল, আমরা সেই লক্ষ্য কার্যকর করে দিচ্ছি এবং সেখানে আমরা শতকরা ৭০ ভাগের ওপরে ভর্তুকি দিচ্ছি। আমরা কৃষি-যান্ত্রিকীকরণ করে যাচ্ছি, যাতে আমাদের কৃষকরা আরও অধিক পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন। যান্ত্রিকীকরণের জন্য হারভেস্টার থেকে শুরু করে সবধরনের যন্ত্র আমরা ধীরে ধীরে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেবো’।
তিনি বলেন, ‘উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, প্রতিটি কৃষি-উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। সেইসঙ্গে আমরা সেচ কাজে কৃষক যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, সেখানে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। কৃষকের বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে নিশ্চিত হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। বর্তমানে সেচ কাজে সোলার-প্যানেল ব্যবহারও আমরা শুরু করে দিয়েছি’।
সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। কৃষক একটা মোবাইল ফোন ধরে ছবি তুলে তার ফসলের কী অবস্থা, মাটির কী অবস্থা বা মাটি পরীক্ষা করা এবং কী ধরনের সার ব্যবহার করবেন, কতটুকু ব্যবহার করবেন, বা কীটনাশক ব্যবহার করবেন কিনা বা কতটুকু করবেন, সেই ধরনের কৃষি তথ্য যাতে তারা পেতে পারেন, সে ধরনের তথ্যকেন্দ্র সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। সেখান থেকে কৃষক তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর মোবাইল ফোনও আমরা সকলের হাতে হাতে তুলে দিয়েছি’।
খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকার গবেষণার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি গবেষণার ওপর। ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি, তখন থেকেই কৃষি গবেষণায় আমরা গুরুত্ব দেই। আজকে গবেষণার ফলে আরও নতুন নতুন ধরনের ফসল উৎপাদন, তরি-তরকারি, ফল-মূল এবং দানাদার খাদ্য-শস্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য যেন উৎপাদন হতে পারেন, তার জন্য ব্যাপক হারে গবেষণা হচ্ছে। উন্নতমানের বীজ আমরা সরবরাহ করছি। যার ফলে আজকে কৃষক খুব অল্প কষ্টে অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করতে পারছেন- ধান উৎপাদন করতে পারছেন, গম করছেন, ভুট্টা করছেন এবং সব ধরনের ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং তা বাজারজাত করার ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি’।
কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকার সহায়তা করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ন্যায্য মূল্য যাতে আমাদের কৃষকরা পান, তার জন্য আমরা যথাযথ দাম নির্দিষ্ট করছি এবং কৃষকদের সহায়তা দিচ্ছি’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকের গুদামে যাতে খাদ্য সংরক্ষিত থাকে, প্রত্যেক কৃষকের ঘরে খাদ্য যেন থাকে। কারণ, যারা উৎপাদন করবেন তারা খাবার পাবেন না, বা তাদের ছেলে-মেয়েরা খাদ্যে কষ্ট পাবে এটা হতে পারে না। আমরা সে ব্যবস্থাটাও সঙ্গে সঙ্গে হাতে নিয়েছি’। খবর বাংলা ট্রিবিউনের
প্রাকৃতিক দুযোর্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে সব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং আমরা সেই সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এবারেও যেমন- ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, তারাও সে ধরনের সহযোগিতা পাবেন। তার জন্য একটা থোক বরাদ্দ আমরা রেখে দিচ্ছি’।
সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি, আমাদের দেশের কৃষিটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা শিল্পের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছি। কারণ, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ব্যবস্থা এবং দেশে-বিদেশে পণ্য যেন আমরা রফতানি করতে পারি, তার ব্যবস্থা করে কৃষককে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি’।