নিজেকে নোবেল পুরস্কারের যোগ্য মনে করছেন না ইমরান

28

ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া যায় কিনা, পাকিস্তানে জোরেশোরে সেই আলাপ উঠেছে। কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের আলোচনায় আর পার্লামেন্টে নয়, ইমরানকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবি উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। তবে এক টুইটার পোস্টে ইমরান মন্তব্য করেছেন, তিনি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নন। কাশ্মিরবাসীর আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংকট নিরসন ও উপমহাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন যিনি, তারই এই পুরস্কার পাওয়া উচিত। ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও অভিনন্দন বর্তমান নামের একজন পাইলটকে আটক করে ইসলামাবাদ। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার মুক্তির সিদ্ধান্ত জানান। ১ মার্চ পাকিস্তান তাকে মুক্তি দিয়ে ইসলামাবাদ দাবি করে, ‘উত্তেজনা প্রশমনে সদিচ্ছার প্রতীক’ হিসেবে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভারত অবশ্য বলছে, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের ভয়ে তাকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। তবে অনেকেই মনে করছেন, এটা ইমরানের শান্তির বার্তা, ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক বিজয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টার জন্য ইমরানকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি উঠেছে তার দেশে। তবে এক টুইট বার্তায় ইমরান খান বলেন, ‘আমি নোবেল পুরস্কারের যোগ্য নই। যিনি কাশ্মিরের জনতার আকাক্সক্ষার সাপেক্ষে কাশ্মির সংকট নিরসনে ভূমিকা নেবেন এবং উপমহাদেশে শান্তি ও মানবিক অগ্রযাত্রার পথ তৈরি করবেন তিনিই এই পুরস্কারের যোগ্য।’
ইমরানকে পুরস্কৃত করার দাবি সম্বলিত এক অনলাইন পিটিশনে ইতোমধ্যেই স্বাক্ষর করেছে তিন লাখেরও বেশি মানুষ। দাবি জোরালো করতে দেশটির পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন দেশটির তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। এতে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তির সিদ্ধান্তে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে নোবেল পুরস্কারের যোগ্য হয়ে উঠেছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের সাবেক সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তা শাহ ফয়সালও ইমরান খানের ‘শান্তির নিদর্শন’ স্বরুপ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তিনিও মনে করছেন, পরমাণু উত্তেজনা থেকে দক্ষিণ এশিয়াকে বাঁচানোয় নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন ইমরান খান।