নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেখা মেলে না তিনি রোগী দেখেন চকরিয়া ম্যাক্স হাসপাতালে

1

মো.শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা চলছে চরম অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার মধ্যে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে নিজের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় চলতি বছর ১৮ জানুয়ারি ডাক্তার আবুল মনজুর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করার পর থেকে তাকে নিয়মিত পাওয়া যায় না হাসপাতালে। তিনি অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকেন ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখায়। ফলে সরকারি কমপ্লেক্সে এসে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন চিকিৎসা না পেয়ে।
চিকিৎসা নিতে আসা রুজিনা, জাকির হোসেন, মরিয়ম বিবি অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতাল তো খালি থাকার জায়গা না! অথচ চিকিৎসক নেই, ঔষধ নেই, আর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তো নিজেই নেই। তিনি চেম্বারে বসে টাকা নিয়ে রোগী দেখেন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে হতাশা। তারা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকায় অনেক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি এখনো পর্যন্ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যসেবাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি বেতনভোগী একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলা শুধু পেশাগত অনৈতিকতা নয়, এটি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অপরাধ।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর আহবান- দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নাইক্ষ্যংছড়ির জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার।
নাম প্রকাশ না করা সত্তে¡ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক কর্মচারী জানান, তিনি যোগদান করার পর থেকে সরকারি গাড়িটি ব্যবহার করেনি কিন্তু তিনি গাড়ি ব্যবহারের জ্বালানি ঠিকই নিচ্ছেন, যার ফলে ৬৪ লক্ষ টাকা মূল্যের গাড়িটি নষ্ট হয়ে গেছে, এখন গাড়িটি অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। তিনি কেন সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছে না জানতে চাইলে তারা জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তিনি চেম্বার করে কক্সবাজার জেলা চকরিয়া ম্যাক্স হাসপাতালে।
সাংবাদিকেরা যদি দেখে ফেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না গিয়ে সরকারি গাড়ি নিজস্ব চেম্বারে ব্যবহার করছেন সেজন্য ভ্রমণে না গিয়ে ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেন। অভিযোগে জানা যায়, তাকে কেউ কিছু বললে- উপরে তাহার লোক আছে বলে ভয় দেখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফদের। যার কারণে মুখ খুলতে নারাজ কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবুল মন্জুর বলেন, আমি এখনো নতুন, স্টাফেরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, হাসপাতালে নার্স ছাড়া সবকিছুর সংকট রয়েছে।
এবিষয়ে বান্দরবান সিভিল সার্জন ডাক্তার শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, গাড়ির ড্রাইভার নেই তাই তিনি গাড়ি ব্যবহার করছেন না, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি, এসব বিষয আমি খতিয়ে দেখব।