বান্দরবান প্রতিনিধি
মিয়ানমার থেকে অস্ত্র ও মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকা থেকে সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা (২৫) নামে মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল সোমবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে সোনাইছড়ি হাতিমারা পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। এ সময় সেখানে থাকা অপর দুই বাংলাদেশী নাগরিক মংগ্য তঞ্চঙ্গ্যা ও লাইক্য মং তঞ্চঙ্গ্যা পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদক ও অস্ত্র পাচার করে আসছে। আটক সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা সেই চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মিয়ানমারের আরাকান আর্মি থেকে বিভিন্ন সময়ে এসে অস্ত্র মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালান ও পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসতো।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাচার চক্রের কার্যক্রম ও তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে আরও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, আটককৃত সুমিঅং সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা স্বীকার করেন যে- তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের সদস্যের সহযোগিতায় মাদক পাচার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাদের সঙ্গে তার পূর্ব থেকেই সুসম্পর্ক ছিল। আটক সুমিঅং তঞ্চঙ্গ্যা জানান, উপরোক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমেই তিনি বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসরুরুল হক জানান, আটক মিয়ানমার নাগরিকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তঃসীমান্ত মাদক চক্রের বিষয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি স্থানীয় যুবকদের মিায়ানমার বা আরাকান আর্মিতে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে ভালোভাবে দেখা উচিৎ বলে তারা মনে করেন।











