মনিরুল ইসলাম মুন্না
শীতের আগমনি হাওয়ায় বাজারে যখন একে একে দেখা মিলছে মৌসুমি সবজির। ঠিক তখনই দাম বাড়ার অস্বস্তিকর স্রোতে পড়েছে নগরবাসী। মাত্র তিন-চার সপ্তাহ আগেও শীতকালীন সবজির আগাম সরবরাহে বাজারে ছিল স্বস্তি; দামও নেমে এসেছিল নাগালের ভেতরে। এমনকি গত সপ্তাহ পর্যন্তও ছিল কিছুটা স্বস্তির ছোঁয়া। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই প্রায় সব ধরনের শীতের সবজির দাম চড়া হয়ে উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার রিয়াজউদ্দিন বাজার ও চকবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শালগমসহ বেশিরভাগ শীতের সবজির দাম আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ভোক্তারা পড়ছেন বেকায়দায়। অনেকে বলছেন, “দাম বাড়ার এতো কারণ তো চোখে পড়ে না!”
বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে সরবরাহ ভালো থাকায় দাম ছিল কম। কিন্তু শেষ সপ্তাহে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। চকবাজারের সবজি বিক্রেতা আমানত উল্লাহ বলেন, “গত কয়েকদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ- এসবের কারণে পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। পণ্য আসেনি ঠিকমতো, তাই দাম লাফ দিয়েছে।”
বাজারে প্রথমদিকে যেসব ফুলকপি ও বাঁধাকপি ছোট আকারে আসত, সেগুলো গত এক সপ্তাহে বড় আকারে বাজারে উঠলেও দাম কমেনি। এখনো প্রতিটি কপির দাম ৪০-৫০ টাকার ঘরেই রয়ে গেছে।
শীতের জনপ্রিয় সবজি শিমের দাম সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল ৫০-৬০ টাকা। এখন আবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০-১২০ টাকায়। নতুন বেগুনের দাম কিছুটা কমলেও এখনো সুবিধাজনক পর্যায়ে আসেনি, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। মুলা এখনো ৪০-৫০ টাকা। বাজারে নতুন শালগমের দেখা মিলেছে, যা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। পালং শাকের আঁটি মিলছে ২০-৪০ টাকায়।
আরেক বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, “শীতের সময়ে মানুষ সবজির কম দামে অভ্যস্ত। সেই অবস্থা ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।”
রিয়াজউদ্দিন বাজারে বরবটি, করলা, কাঁকরোলের দামও বেড়ে ৬০-৭০ টাকা থেকে এখন ৭০-৮০ টাকার মধ্যে। ঢেঁড়স ও পটলের দামও ৪০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৫০-৬০ টাকা।
বাজারে নতুন আলুর দেখা মিলেছে, তবে দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা। পুরোনো আলু তুলনামূলক সবচেয়ে সস্তা, ২০-৩০ টাকায় মিলছে এখনো। পাশাপাশি পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখনও ১২০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।
তবে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের দামও সামান্য কমে প্রতি ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় নেমেছে।
সব মিলিয়ে, শীতের শুরুতেই বাড়তি দামে ভোক্তাদের হাঁপিয়ে উঠলেও বিক্রেতারা বলছেন- সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজার আবারও শান্ত হয়ে আসবে।
তবে মাছ বাজারে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম আগের মতোই আছে। বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং ছোট রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৫৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, বোয়াল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং পাবদা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ পূর্বদেশকে বলেন, “বাজার দর স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজার মনিটরিং প্রতিনিয়ত চলছে, কোনো সিন্ডিকেট মাথাচাড়া দিতে পারবে না।”










