ধ্বংসের পথে তাদের বিধ্বংসী রাজনীতি

26

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটা তাদের জনবিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত। গতকাল শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে একথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ধ্বংসের পথে তাদের বিধ্বংসী রাজনীতি। ছদ্মবেশী, বিধ্বংসী যে রাজনীতি তারা করে, সেই বিধ্বংসী রাজনীতি ধ্বংসের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের ইতিহাস বলে, যারা বয়কট করবে, তাদের কিন্তু জনবিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক ভাগ্য অনিবার্য হয়ে গেল।
বিএনপিকেও এ কথা বলি, গত সাধারণ নির্বাচনে জনমতের হাওয়াটা যদি তাদের অনুকূলে থাকত, তাহলে এর প্রভাবটা তাদের ফলে পড়ত। জনমত যেদিকে থাকে, নির্বাচনের ফল সেদিকেই টার্ন করবে, এটা নির্বাচনের ইতিহাস।
বিএনপির বর্জনের মধ্যে উপজেলা নির্বাচন কেমন হবে- এই প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপজেলা নির্বাচন একেবারে পারফেক্ট হবে, এটা আমি মনে করি না। পারফেক্ট বিষয়টি ভিন্ন বিষয়। কোনো বিষয়কে পারফেক্ট বলা ঠিক না, ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাই। খবর বিডিনিউজের
গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগে কিছু কিছু ভুলত্রুটি আমাদের অতিক্রম করতে হবে। এটা থাকবে এবং এটা নিয়ে এগোতে হবে। নির্বাচন করতে করতে এক সময় দেখা যাবে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র রূপ নিয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে কাদের বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে অনেকের আশঙ্কা ছিল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর সংঘাত-সহিংসতা হবে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোথাও কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেনি। ৩৬টি ওয়ার্ডের কোথাও কোথাও ১০ জন করে প্রতিদ্ব›দ্বী ছিলেন। তবুও কোথাও কোনো সংঘর্ষ হয়নি।
সক্রিয় রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলামকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, হয়ত নেতা ছিলেন না, সমর্থক ছিলেন। আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন, অন্য কোনো দল কখনও করেননি।
তিনি বিজিএমইএ নির্বাচন করতেন, সেখানেও আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র আনিসকেও তো মনোনয়ন দিয়েছিলাম, তিনিও তো আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন না।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন জাতীয় পার্টি ‘শক্তিশালী ভূমিকা’ রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে অঙ্গীকার করেছিল, সিটি নির্বাচনে সেটির কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বিরোধী দল যদি শক্তভাবে বিরোধিতা করত, তাহলে নির্বাচনটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হত। সংসদের ভেতরে ও বাইরের উভয় রাজনৈতিক দলকে আমরা শক্তিশালী দেখতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন ছিলেন।