দৃষ্টির নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতা

2

চিকিৎসা ও শরীরতত্ত্ব, পদার্থবিদ্যা এবং রসায়নে ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার উদযাপনে চট্টগ্রাম ৫ম বারের মতো আয়োজিত হয়েছে দুষ্টি নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতা ২০২৫। চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, স্কুল ও ক্লাবের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় উদ্ভাবনী চিন্তা, জ্ঞান এবং বিজ্ঞানমুখী তরুণদের প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
রবিবার নগরীর থিয়েটার ইনিস্টিউটে এই আয়োজনে সহ-আয়োজক ছিল ডিজিজ বয়োলজি অ্যান্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ, চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি, নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনেজিস্ট বাংলাদেশ, ইউএসটিসি ফার্মা সায়েন্স ক্লাব, চুয়েট বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি রোবোটিক্স ক্লাব, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ রিসার্চ ক্লাব, আনন্দ বিজ্ঞান ফুলকি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ ডিবেটিং ক্লাব, সিভাসু বায়োটেক ক্লাব। ম্যাগাজিন পার্টনার ছিলেন বিজ্ঞানবিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা। মিডিয়া পার্টনার ছিল চট্টগ্রাম লাইভ। সহযোগিতায় ছিল এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড ও ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ইমরান বিন ইউনুস। বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সিনিয়র সহ-সভাপতি বনকুসুম বড়ুয়া নুপুর, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না মজুমদার।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান বলেন, যারা ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে, সেই তরুণদের জন্য এমন অনুষ্ঠান অনুপ্রেরণার এক বিশাল উৎস। গবেষণার প্রতি আগ্রহ এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞানের প্রয়োগ এই দুই দিকেই নোবেল জয়ীদের কাজ আমাদের নতুন দিকনির্দেশনা দেয়।
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক কবি আবুল মোমেন বলেন, বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয় এর প্রভাব মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে। তরুণ প্রজন্মকে বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ ও অনুসন্ধিৎসু মন গড়ে তুলতে হবে।
ডা. ইমরান বিন ইউনুস বক্তব্যে নোবেলপ্রাপ্ত গবেষণার মানবকল্যাণম‚লক দিকগুলোর উপর আলোকপাত করে বলেন, চিকিৎসা, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের নতুন উদ্ভাবনগুলো রোগ নিরাময়, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে। বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরাও ভবিষ্যতে বিশ্বমানের আবিষ্কারে অবদান রাখতে সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক মাসুদ বকুল বলেন, দৃষ্টি চট্টগ্রাম সব সময় তরুণদের বিজ্ঞানচর্চা ও সৃষ্টিশীল কর্মকাÐে উৎসাহিত করে। নোবেল বিজ্ঞান বক্তৃতার মতো এটি একটি শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক প্ল্যাটফর্ম। দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরী সকল সহযোগী প্রতিষ্ঠান, অতিথি, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্যানেল আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম মাসুদুল আজাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাশ্বত রবি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আলম।
মূল আলোচনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. এম মাসুদুল আজাদ চৌধুরী বলেন, দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কেমন করে নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি না করে জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়, সেই কৌশল উদঘাটনের স্বীকৃতিতে তিন গবেষক পেলেন চিকিৎসার নোবেল। আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, যেন আমরা সব ধরণের জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে পারি এবং তার সঙ্গে অটোইমিউন রোগ এড়াতে পারে।
চুয়েট রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাশ্বত রবি বলেন, রসায়নের জগতে নোবেলজয়ী তিনজন বিজ্ঞানী আমূল পরিবর্তন এনেছেন। বিশেষ করে জৈব ধাতব রসায়ন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কোনো কিছু স্থায়ীভাবে বেঁধে রাখতে চাইলে যেমন একটি বেড়া বা অবকাঠামো প্রয়োজন, তেমনি আধুনিক বিজ্ঞানকেও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এই কাঠামো অত্যন্ত জরুরি।
চবি পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কাউছার আলম বলেন, এবার পদার্থে নোবেল বিজয়ীরা ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কার কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তারা অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরি করেন, যা হাতে ধরা যায়। সেই সার্কিটে তারা কোয়ান্টাম টানেলিং এবং শক্তির নির্দিষ্ট স্তর দুটি বিষয়ই দেখিয়েছেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নোবেলজয়ী আবিষ্কারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিজ্ঞান ক্লাবের উদ্যোগে পোস্টার প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী ধারণা, তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা এবং নান্দনিক ডিজাইন বিচারক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে। শেষে পোস্টার ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। দৃষ্টি চট্টগ্রাম ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানভিত্তিক এমন আরো আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বে উৎসাহিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিজ্ঞপ্তি