দুই আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে

19

নগরীর এমইএস কলেজ গেটের বিপরীত পাশে স্কুলছাত্র জাকির হোসেন ওরফে সানি হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণের পর কারাগারে যাওয়া দুই আসামি আনিসুর রহমান ও মো. মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নগর গোয়েন্দা পুলিশ উভয়ের ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে উচ্চ আদালতের অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষে গত ২১ নভেম্বর দুই আসামি মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ ওসমান গণির আদালতে আত্মসমর্পণ করে তাদের জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই দুই আসামি নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তারা দুজন ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ আগস্ট দুপুরে নগরের খুলশী থানার ওমরগণি এমইএস কলেজ গেটের বিপরীতে জাকিরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সাদা শার্ট পরিহিত স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিছু ছেলে তাকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত করার দৃশ্য ধরা পড়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে লাগানো ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায়। নিহত জাকির পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কুতুব উদ্দিনের শ্যালক। ঈদুল আজহার আগে ঢাকা থেকে নগরীর খুলশীতে বোনের বাসায় বেড়াতে এসে খুনের শিকার হয়। ঢাকার মিরপুরে একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত জাকির। ঢাকায় যাওয়ার দুই বছর আগে চট্টগ্রামে বোনের বাসায় থাকত। ওই সময় নগরীর সারমন স্কুল এন্ড কলেজে পড়ত সে। খুনের ঘটনায় জাকিরের বড় বোন মাহফুজা আক্তার কয়েক জনের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা করেন। পরে এমইএস কলেজছাত্র সংসদের জিএস আরশেদুল আলম (বাচ্চু) ও নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরসহ ৫১ জনের নাম এজাহারে সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন বাদী। আদালত খুলশী থানা পুলিশকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। যদিও ছাত্রলীগ নেতারা তাদের বিরুদ্ধে আনা খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এই মামলায় বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে এবং অনেকে জামিনে আছেন।