তৎকালীন সরকারের চাপে নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে

0

মনিরুল ইসলাম মুন্না

জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সামনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, তৎকালীন সরকারের চাপের কারণে বিভিন্ন অনিয়ম ঘটেছে। তারা চেয়েছিলেন, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থা, সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী-এমপি ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপের কারণে সেটা আর করা সম্ভব হয়নি। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে শুনানি শেষে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা পূর্বদেশকে এসব তথ্য জানান।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের তদন্ত কার্যক্রমে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কিত অনিয়মের তদন্ত করা হয়। এ ঘটনায় রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম। তদন্ত কমিটির কাছে শুনানিতে অংশ নেন তিনি, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবিএম মশিউজ্জামান ও পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন, ৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ৫ জন পোলিং অফিসার।
শুনানিতে অংশ নেয়া সদস্যরা জানান, শুনানির সময়ে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা একাধিক ক্ষেত্রে চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। সবাই নিজ নিজ পক্ষ থেকে দায়িত্বের বিষয়টি খোলাসা করেন। তবে শুনানি শেষে সাবেক বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি কোনো চাপ অনুভব করেননি এবং তার দায়িত্বপূর্ণ আসনে কোনো অনিয়ম হয়নি। তার বক্তব্য ছিল ‘ভোটার উপস্থিতি কম থাকার পরও অতিরিক্ত ভোট পড়ার ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা আমি জানি না। তবে, আমার আসনে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, নির্বাচনে অনিয়মের তদন্তে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের পর কমিশন থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ জানিয়ে দেয়া হবে।
এক কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাবেক বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম অনেক প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারেননি, যা তদন্ত কমিটির সদস্যদের জন্য একটি বড় দৃষ্টিভঙ্গির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত দুই দিনের শুনানিতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে ৬০ জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন দুই আসনের প্রার্থী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এসব শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করেন জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম এবং ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন। এছাড়া, তদন্তে অংশগ্রহণ করেন কমিশনের আইন ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন, মো. সোয়েবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল মোমিন সরকার।
চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন আগত সকলের সাথে কথা বলেছেন। তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে শুনানি গ্রহণ শুরু করেছে জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন। তদন্ত কমিশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- তিন নির্বাচনের ভোটের আদ্যোপ্রান্ত বের করে জড়িতদের চিহ্নিত করা। একইসাথে সরকারের কোন পর্যায় থেকে নির্দেশনা এসেছিল, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শুধু চাকরি বাঁচাতে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিলেন নাকি ব্যক্তিগতভাবে লাভবানও হয়েছেন তা খুঁজে বের করছে কমিশন।