তিন উপদেষ্টাকে অপসারণসহ ৩ দাবি ৮ দলের

3

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে তিনজন উপদেষ্টা ‘বিপথে চালিত’ করছেন বলে দাবি করেছেন জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই উপদেষ্টাদের কারো নাম না বলে আট দলের তরফে তাদের অপসারণ, আলাদাভাবে গণভোটের তারিখ ঘোষণাসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরেছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার সকালে আট দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহের বক্তব্য রাখছিলেন।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে আট দলের কর্মসূচির ফাঁকে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একই দিনের জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন। তার পরপরই জামায়াত তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে ‘জনআকাক্সক্ষা পূরণ’ হয়নি। খবর বিডিনিউজ’র
তাহের বলেন, “আমরা পরিষ্কার করে এখন বলতে চাই, এক. প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেনৃএকই দিনে নির্বাচন গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, সেটা পরিবর্তন করে অনতিবিলম্বে আলাদাভাবে গণভোট করার তারিখ উনি ঘোষণা করবেন, এটা আমরা আশা করি। দুই. সরকারে কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টা আছেন যারা প্রধান উপদেষ্টাকে মিসগাইড করছেন, আমরা তাদের অপসারণ দাবি করছি। আপনারা হয়ত প্রশ্ন করবেন যে তাদের নাম বলেন। আমরা আজকেও নাম বলতে চাই না। তবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের নাম আমরা প্রেরণ করব।”
তিন নম্বর দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রশাসনের যে সমস্ত পরিবর্তন হচ্ছে সেখানে নিরপেক্ষ, বিশেষ করে সৎ এবং জবাবদিহির আওতায় থাকতে পারে এরকম মনোভাবের লোকদেরকেই নিয়োগ করতে হবে। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার জন্য সেখানে চেষ্টা করতে হবে, আমরা এই তিন দাবি জানাচ্ছি।”
মঙ্গলবার ঢাকায় সমাবেশ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দাবি পূরণ না হলে রোববার প্রধান উপদেষ্টা বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে আট দল।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে নেতা তাহের বলেন, আগামী ১৬ নভেম্বর ঢাকায় ৮ দলের শীর্ষ বৈঠকে পরবর্তী কর্মকৌশল ঠিক করে তা জানানো হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে শুক্রবার মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে আট দলের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলো হল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার একাংশ ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে একটি দলের প্রতি আনুগত্যে প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমে জাতি যে একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করেছিল জাতির সে আকাক্সক্ষা ব্যাহত হয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, “আজকে আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, প্রধান উপদেষ্টাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করছেন তিনজন উপদেষ্টা। তারা ভুল তথ্য দিয়ে নানাভাবে বুঝিয়ে একটি দলের হয়ে কাজ করে সরকারকে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন যাতে হতে না পারে সেদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সুকৌশলে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”
তাহের বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিতে চাই, আমরা আট দল এবং আমাদের সাথে আরো কিছু দল আছে যারা ফরমালি না আসলেও আমাদের সাথে যোগাযোগ আছে, আমরা সকলেই আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগেই একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোকৃএ ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ। সেজন্যই আমরা আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য আমরা মাঠে কাজ করছি।