পূর্বদেশ ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা না ফেরার প্রসঙ্গ মিলিয়ে ফেলা ‘অরুচিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ উপেদেষ্টা মনে করেন, তারেক রহমান ‘উপযুক্ত সময়ে’ দেশে ফিরে আসবেন।
লন্ডনে থাকা তারেক রহমান দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘সর্বোচ্চ সহযোগিতা’ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন এ উপদেষ্টা। খবর বিডিনিউজের।
২৩ নভেম্বর রাতে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ‘সংকটাময়’। পরের দিন শুক্রবার তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই খালেদা জিয়ার।
খালেদা জিয়ার এমন অবস্থার মধ্যে শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে নিজের দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশে ফেরার বিষয়টি তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন’ নয়।
তার এমন বক্তব্যের পর সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই। তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সহযোগিতার আশ্বাসও আসে একাধিক উপদেষ্টার মুখ থেকে।
এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার কাছে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও নিরাপত্তার হুমকি নিয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।
জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে কোনো আইনি বাধা আছে বলে আমার জানা নেই। যদি কোনো বাধা থেকেও থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। ওনার নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
কোনটা উপযুক্ত সময় সেটা নির্ধারণের ক্ষমতা উনার রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। উনি উপযুক্ত সময়ে দেশে আসবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তারেক রহমানের দেশে আসা না আসা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া কিছু প্রশ্ন ‘অরুচিকর’ বলেও মন্তব্য করেন আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, উনি কেন আসছেন না, এ ধরনের প্রশ্ন আমাদের অনেকেই তুলে থাকে। আমার কাছে এসব প্রশ্ন তোলা খুব অরুচিকর মনে হয়। এটা মা-ছেলের সম্পর্ক। এখানে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ইনস্ট্রাকশান আছে কিনা, ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমানের কোনো চিন্তা আছে কিনা, সেটা বিচার করাটা রুচিকর মনে হয় না। কখন আসতে হবে, সেটা সবচেয়ে ভালো ওনারাই বুঝবেন।
২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন জিয়া পরিবারের এই জ্যেষ্ঠ সদস্য। বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে একাধিক মামলায় তার কারাদন্ড হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর সব মামলা থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হওয়ায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।










