ঢাকায় অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ বাস

69

রাজধানীতে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বাসের কারণে ঘটছে বলে তথ্য উঠে এসেছে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক গবেষণায়। ঢাকায় সাম্প্রতিক আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর সবকটিতেই বাসের বেপরোয়া চালনাকে দায়ী করেছে এআরআই।
সবশেষ মঙ্গলবার রাজধানীর নদ্দা এলাকায় বাস চাপায় বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। রাজধানীতে আলোচিত বেশিরভাগ দুর্ঘটনায় বাসের জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। খবর বিডিনিউজের
গত বছরের ৩ এপ্রিল কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে পড়ে হাত বিচ্ছিন্ন হয় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব হোসেনের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ এপ্রিল মারা যান রাজিব।
২০ এপ্রিল রাতে বনানীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী রোজিনার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ এপ্রিল মারা যান রোজিনা।
এরপর গত বছরের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা রাস্তায় নেমে আসে রাজধানীর অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নেমে আসে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশেই।
ওই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রেখে তড়িঘড়ি করে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় সরকার। তবে তাতেও সড়কে থামেনি মৃত্যুর মিছিল।
গত বছর ডিসেম্বরে গুলশানের শাহজাদপুরে বাসচাপায় স্কুলছাত্রী, বিজয় সরণীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা আরোহী এক তরুণ, অক্টোবরে দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে এক তরুণ, এরও আগে সেপ্টেম্বরে বাসের চাপায় একাত্তর টেলিভিশনের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়।
বুয়েটের এআরআই জানাচ্ছে, ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬৬টি দুর্ঘটনায় ৬৯৯ জন নিহত এবং এক হাজার ২২৭ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৪টি দুর্ঘটনাই বাসের কারণে ঘটেছে। এছাড়া ১৩০টি মোটরসাইকেল, ১১৩টি টাক, ৭৩টি পিকআপ এবং ৫৬টি ব্যক্তিগত গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এআরআইর তথ্য।
এআরআইয়ের হিসাবে, ওই সময়ে রাজধানীতে দুর্ঘটনা, আহত ও নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে বাসের কারণে দুর্ঘটনাও।
২০১৬ সালের মার্চ থেকে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ১২৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন, আহত হয়েছেন ৩৩৭ জন। ২০১৭ সালে ঢাকায় ২৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটার তথ্য দিচ্ছে এআরই। তাতে ২৭৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৫৮ জন আহত হয়েছিল। সে বছর ১৪৫টি দুর্ঘটনায় বাসের সম্পৃক্ততা ছিল।
২০১৮ সালে ঢাকায় ২৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৬ জন নিহত হয়। আহত হয়েছিল ৫৩২ জন। সে বছর ১৩৪টি দুর্ঘটনার কারণ বাস।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ। তিনি বলেন, ঢাকায় দুর্ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে বাসের পরই রয়েছে ট্রাক ও মোটর সাইকেল।
অদক্ষ চালকদের মধ্যে যাত্রী নেওয়ার প্রতিযোগিতা ঢাকায় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, ঢাকার নানা কোম্পানির নামে চলাচলকারী বাসগুলো বিভিন্ন মালিকের। এজন্য তারা প্রতিযোগিতা করে। তারা একটি কোম্পানির নাম নিয়ে চলে। দৈনিক চুক্তিতে চলাচলের কারণে এগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। যে কারণে দুর্ঘটনা বেশি হয়।