ডিসেম্বরে শৈত্যপ্রবাহের আভাস

11

এম এ হোসাইন

আবহাওয়া অধিদপ্তর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দু’দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে। তবে আবহাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় পরিবর্তনের আভাস নেই।
গতকাল মঙ্গলবার সর্বশেষ প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নি¤œচাপটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও দুর্বল হয়েছে। এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬২৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৫৮৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১৪৬৫ এবং পায়রা বন্দর থেকে ১৪৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রামসহ দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নি¤œচাপ দুর্বল হয়ে গেলেও দেশের অভ্যন্তরীণ আবহাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় পরিবর্তন নেই। তবে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামী পাঁচ দিন সামগ্রিকভাবে আবহাওয়ায় তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বেশির ভাগ সময়ই থাকবে শুষ্ক আবহাওয়া এবং আংশিক মেঘলা আকাশ।
অন্যদিকে শীতের হাওয়া নামছে উত্তর দিক থেকে। হিমালয়ের কোলঘেঁষা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের দাপট এখনই বেশ তীব্র, সেখানে তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ফাঁকা হয়ে পড়ছে রাস্তাঘাট। নীলফামারীর সৈয়দপুরেও ঘন কুয়াশায় বিমান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, ফ্লাইট ছেড়েছে দেরিতে।
আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক নূরুল করিম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে দেশে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একটি মৃদু, অন্যটি মাঝারি। বিশেষ করে ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বাড়বে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ সময় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়বে নদী অববাহিকায়, আর দেশের অন্যান্য স্থানে থাকবে হালকা কুয়াশা।
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দেশে এখন ঘূর্ণিঝড়ের হুমকি নেই। তবে এর প্রভাবে রাতের তাপমাত্রায় অস্থায়ী পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী তিন থেকে পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশব্যাপী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম; কেবল রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।
ডিসেম্বরের শেষভাগে শীত হবে আরও তীব্র এবং জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পৌঁছবে চূড়ান্ত রূপে, এমনই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। কৃষি, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও জনজীবনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদ ড. শাহীনুল ইসলাম বলেন, শীত ধীরে ধীরে নামছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দেশজুড়ে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা বাড়বে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলেই শৈত্যপ্রবাহের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে।