ডিসির তড়িৎ ‘অ্যাকশন’ ভূমি অফিসে গণবদলি

9

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজস্ব শাখার ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতি ও হয়রানি নিয়ে সেবা গ্রহিতাদের অভিযোগের শেষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিকেই এই অভিযোগের তীর। যে কারণে তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থল বা শাখায় থাকায় ৬৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। গত ৩-৬ নভেম্বর তিনদিনে সাতটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাঁদেরকে বদলি করা হয়। চলতি সপ্তাহেই সাধারণ কর্মচারী ও অফিস সহায়কদের বদলি আদেশ হবে। চট্টগ্রামে নতুন জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম যোগদানের পর এমন আকস্মিক বদলিতে ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতিরোধ ও সেবার পরিধি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম পূর্বদেশকে বলেন, ‘ভূমি সেবার উন্নয়নে তিন বছরের বেশি সময় যারাই কর্মরত আছেন তাঁদেরকে বদলি করা হয়েছে। বাকি যারা আছেন সবাইকে বদলি করে দিব’।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ভূমি-উপ সহকারী কর্মকর্তা পদের ছয়জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাঁরা তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত। এর আগে লটারীর মাধ্যমে বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও এই ছয়জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়নি। গত ৩ নভেম্বর এই ছয়জনকে বদলি করা হয়েছে। অফিস সহকারী, সার্টিফিকেট পেশকার, ক্রেডিট চেকিং ও সায়রাত সহকারী, সার্টিফিকেট সহকারী, নাজির কাম ক্যাশিয়ার, মিউটেশন সহকারী পদে ৬০ জনকে বিভিন্ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। এই বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাছ থেকে কর্মচারীদের কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়া হয়। যারাই কর্মস্থলে ভালো কাজ করেছে তাদের যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে ভালো জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাদি উর রহিম জাদিদ পূর্বদেশকে বলেন, ‘মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের একটি সিদ্ধান্ত ছিল তিন বছরের বেশি সময় যারা একই জায়গায় আছে তাঁদেরকে বদলি করতে হবে। সে হিসেবে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা প্রায় ৯০ শতাংশ বদলি ছয় মাস আগে শেষ হয়েছিল। বাকি ছয়জন ছিল তাঁদেরকে বদলি করা হয়েছে। রাজস্ব প্রশাসনের ছয়টি পদে বদলি শেষ হয়েছে। অফিস সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারী যারা আছে তাঁদেরকে দুই-একদিনের মধ্যে বদলি করা হবে। এই বদলিতে সেবার মান বাড়বে। কারণ, একজন ব্যক্তি অনেকদিন এক জায়গায় থাকলে অনেকের সাথে পরিচিত হয়। এক্ষেত্রে নিয়মের কিছু ব্যত্যয় হয়। ইতোমধ্যে আমরা নির্দেশনাও দিয়েছি কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের কোনো অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশা করি ভূমি সেবায় বড়ধরনের পরিবর্তন আসবে’।
জানা যায়, ভূমি সেবা পেতে গিয়ে সেবা গ্রহিতারা বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হন। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভূমি সেবা নিতে যাওয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি ফির বাইরে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে। উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে অনেকেই সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এতে ভূমি অফিসে দালালের আনাগোনা বাড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজস্ব শাখায় গণবদলি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের প্রতিটি শাখায় এই বদলি করা হবে। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী তিন বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে আছে তাঁদের তালিকা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের হাতে পৌঁছেছে। নতুন জেলা প্রশাসকের এমন অ্যাকশনে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বদলি আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলএ শাখায় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে চট্টগ্রামের একজন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, ‘তিন বছরের বেশিদিন পর্যন্ত যারাই কর্মস্থলে আছে তাদের প্রত্যেককেই বদলি করা হচ্ছে। যাদের কর্মস্থলে তিন বছর হয়নি তাদের কার্যক্রমও নতুন ডিসি মনিটরিং করছেন। যেখানেই অনিয়ম দুর্নীতি হবে সেখানেই তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। অনেকেই দীর্ঘদিন একই জায়গায় চাকরি করতে গিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইতোমধ্যে যে বদলি প্রক্রিয়া চলছে এতে দুর্নীতি যেমন কমবে তেমনি সেবার গতি বাড়বে’।