ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে যানবাহন আটক করে টাকা নেয়ার অভিযোগ রাঙ্গুনিয়ায়

59

রাঙ্গুনিয়ায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের চলাচল করা অবৈধ যানবাহন আটক করে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৩০টি নম্বরবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাড়ির চালক থেকে মাসিক টোকেনের নামে প্রতি সিএনজি খেকে ৩৪০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আগে রাঙ্গুনিয়ায় টোকেন বাণিজ্য ছিলনা। এ বিষয় নিয়ে শত শত সিএনসজি চালকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছ্।ে তারা বিষয়টি সমাধানে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন বলে জানান। মঙ্গরবার দুপুর দুইটার দিকে রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় ঘুরাঘুরি করছেন উপজেলার হোছনাবাদ ইউনিয়নের মোগলের হাট এলাকার মো. নাজির (৩৪) তিনি বলেন, নম্বর না থাকায় ট্রাফিক পুলিশের একজন লোক অটোরিক্সাটি থানায় নিয়ে যায়। তারা আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৪৭০০ টাকা দেয়ায় গাড়িটি ছেড়ে দেন। জরিমানার টাকা দেয়া হওয়ার কথা বললেও কিন্তু আমাকে কোনো রশিদ দেইনি তাঁরা। ১৫ দিন আগে একই ব্যক্তি রোয়াজারহাট এলাকা থেকে গাড়িটি আটক করেন। সাড়ে ৩ হাজার নিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেন। এ মাসের ২৫ তারিখ থেকে নম্বরবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিক্সাগুলোর জন্য টোকেন চালু করেছে। সকাল ১১ টার দিকে পৌরসভার ইছামতি গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তির একটি মিনি ট্রাক আটক করা হয়। জানতে চাইলে মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “ তাঁর গাড়ির কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু নবায়ন না থাকায় গাড়ি আটক করায়। পৌরসভার স্থানীয় সাবেক এক কাউন্সিলরের সুপারিশে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেয়। উপজেলার রাজা নগর ইউনিয়নের রানীর হাট এলাকার এক ব্যক্তির অবৈধ একটি জিপ(চাঁদের গাড়ি) আটক করা হয়। থানা এলাকায় অবস্থান করা গাড়ির চালক মো. জামাল (৩০) বলেন, গাড়িটি ছেড়ে দিতে ১৫ হাজার টাকা চেয়েছেন এক পুলিশ। মালিককে মুঠোফোনে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় যানবাহন চালকদের অভিযোগ, গাড়ির রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেও রেজিষ্ট্রেশন পাচ্ছেন না। তারপর কিছুদিন পর পর গাড়ি আটক করে। অভিযানের সময় মামলা দেয়ার হুমকি দিয়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা প্রতি গাড়ি থেকে নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় অটোরিক্সা চালক সমিতির কিছু সদস্য এসব কাজে তাঁদের সহযোগিতা করছেন। এসবের একটা সমাধান দরকার। সিএনজি চালক আবদুল সাত্তার (৩৪) জানান, এ সড়কে আগে টোকেল সিষ্টেম চিলনা। এখন একমাস গাড়ি চালাতে ট্রাফিককে ৩২০ টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হবে। না নিলে গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করবে। আমরা না খেেেয় মরতে হবে। জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ গাড়ি ধরা ও মামলা দেয়া ট্রাফিক পুলিশের কাজ।
জরিমানা আদায় করলে অবশ্যই একটি রশিদ দেবেন। মামলার জরিমানা রশিদ ছাড়া গ্রহন করা হয়না। রাঙ্গুনিয়া থানার দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ উপপরিদর্শক (টিএসআই) কামাল হোসেনের মোবাইলে ফোন করলে তিনি জানান, এ ধরনের চাঁদা আদায়ের বিষয় তার জানা নেই। কিছুক্ষন পর ঐ মোবাইল থেকে বলে এটি কামাল হোসেনের স্যারের নাম্বার না। কার নাম্বার জানতে চাইেলে তার গাড়ির ড্রাইভারের নাম্বার বলে জানান।